Recent Post

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

ঈশ্বর কি একাধিক ? ঈশ্বরত্বের ব্যক্তিসত্তা কয়টি ?

ঈশ্বর একমাত্র , এবং জীবিত ও প্রকৃত বা সত্য ঈশ্বর ।

 ঈশ্বরত্বের ব্যক্তিসত্তা তিনটি : পিতা , পুত্র এবং পবিত্র আত্মা । এই তিন ব্যক্তিসত্তাই হলেন একই ঈশ্বর , উপাদানে সমান; পরাক্রম ও মহিমায় সমান । 

১. ঈশ্বর এক এবং অনন্য ( ১ করি , ৮ : ৪ ) 

২. তােমরা গিয়ে সকল জাতিকে শিষ্য কর । পিতা , পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে তাদের বাপ্তিস্ম দাও । 

৩ , প্রভু যীশু খ্রীস্টের অনুগ্রহ , ঈশ্বরের প্রেম এবং পবিত্র আত্মার সহভাগিতা তােমাদের সকলের সহবর্তী হােক (২করি , ১৩:১৪ ) । 

আমাদের সামনে যে - দুটি প্রশ্ন উপস্থাপিত হয়েছে , সে - দুটি খ্রীস্টীয় বিশ্বাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ । একে বলা হয় ত্রিত্বের মতবাদ । কোন একজন বলেছেন , সকল ত্রুটি যে-কোনভাবেই হােক ঈশ্বরের ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে পশ্চাদমুখী হয়েছে । কোনক্রমেই আমরা এই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য সম্পর্কে খুব বেশি সুনিশ্চিত হতে পারি না । 


ঈশ্বর : একের মধ্যে তিন 

ত্রিত্বের মতবাদকে তিনভাবে ব্যক্ত করা যেতে পারে : ( ১) এক ঈশ্বর ; ( ২ ) পিতা যিনি ঈশ্বর , পুত্র যিনি ঈশ্বর এবং পবিত্র আত্মা যিনি ঈশ্বর ; এবং ( ৩ ) তিন ব্যক্তিসত্তার প্রত্যেক সত্তা অন্যের থেকে স্বতন্ত্র । লক্ষ করতে হবে যে , এই মতবাদের মন্তব্যে দুটি আপাতদৃষ্টিতে বিপরীতধর্মী সত্যকে সতর্কভাবে রক্ষা করা হয়েছে । এই দুটি সত্য হল : ঈশ্বরের একত্ব বা ঐক্যতা এবং বহুত্ব । একমাত্র ঈশ্বরের অস্তিত্বের মধ্য দিয়ে একত্ব ( unity ) অভিব্যক্ত প্রকাশিত হয়েছে । ঈশ্বর তিন ব্যক্তিসত্তায় প্রকাশিত — এই তথ্যের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের বহুত্ব ব্যক্ত হয়েছে । প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে , এর কোনাে অর্থ নেই । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় , “ জেহােভার সাক্ষীর ” (Jehovan's Witnesses ) মতাে সম্প্রদায় এই ত্রিত্বের মতবাদকে পরিহাস করে থাকে । তারা বলে , যারা এই মতবাদে বিশ্বাস করে , আসলে তারা তিন ঈশ্বরে বিশ্বাসী! এবং যারা একথা বলে তারা “ ত্রিত্ববাদী ” নয়, “একত্ববাদী ” । অর্থাৎ , তারা ঈশ্বরের একমাত্র ব্যক্তিসত্তায় ( পিতা বা জেহােভা ), বিশ্বাস করে । তারা শিক্ষা দেয় , যীশু এক সৃষ্ট সত্তা (পিতা ঈশ্বরের মতাে স্বয়ং - অস্তিত্বশীল নন) , এবং পবিত্র আত্মা বড়াে জোর ঈশ্বরের পরাক্রমের ( পিতা ঈশ্বরের মতাে পবিত্র আত্মা একজন ব্যক্তি নন ) একটি নাম । একত্ববাদীরা (জেহােভার সাক্ষীরা যার অন্যতম উদাহরণ ) ঈশ্বরের এককত্বকে মেনে চলে , কিন্তু তারা এক ঈশ্বরের তিন পৃথক ব্যক্তিকে অস্বীকার করে । বহু-ঈশ্বরবাদীরা বিশ্বাস করে যে , একাধিক সত্তা আছে যাকে ঈশ্বর নামে অভিহিত করা যেতে পারে । কিন্তু তারা বিশ্বাস করে না যে , এই “দেবতাদের" একটি অভিন্ন বা একই অপরিহার্য উপাদান বা সত্তার উপাদান আছে । মরমনরা (Mormons ) বহু-ঈশ্বরবাদী । 


এক ঈশ্বরবাদ এবং বহু-ঈশ্বরবাদ - দুটিই আপাতভাবে ত্রিত্বের মতবাদের চেয়ে বােঝা সহজ বলে মনে হয় । কিন্তু আমরা যেন মনে না-করি যে , এগুলি তাদের পক্ষে বা ঐতিহাসিক খ্রীস্টীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনাে যুক্তি । কারণ যিশাইয়র মাধ্যমে পরমপ্রভু বলেছেন , “ আমার ভাবনার সঙ্গে তােমাদের ভাবনার কোন মিল নেই , আমার ও তােমাদের পথ এক নয় ” ( ৫৫ : ৮ ) । অন্যভাবে বলা যেতে পারে , আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে যে , ত্রিত্বের মতবাদ এমন নয় যে , যুক্তিগ্রাহ্য মনে হয়েছে বলে , লােকে তা বিশ্বাস করেছে । না , আমাদের এই মতবাদ বিশ্বাস করার একমাত্র কারণ যে , শাস্ত্রবাক্য অন্য কোন অভিমতকে অনুমতি দেয়নি । এখন আমরা শাস্ত্রের কতকগুলি সত্য বিবেচনা করে দেখি , যা আমাদের বিশ্বাস করা প্রয়ােজন । 

তিনটি অপরিহার্য বিষয় 

( ১ ) শাস্ত্রবাক্য আমাদের সুস্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে , একমাত্র জীবন্ত ও সত্য ঈশ্বর বর্তমান । “ প্রভু পরমেশ্বরই একমাত্র ঈশ্বর , তিনি ছাড়া আর কেউ নেই ” (১রাজাবলি ৮:৬০) । “ স্বর্গে কিংবা পৃথিবীতে যদি তথাকথিত দেব-দেবীরা থেকেও থাকে এবং বাস্তবিকই , অনেক দেবতা ও অনেক প্রভু আছে – তবুও আমাদের আরাধ্য ঈশ্বর এক , ... ( ১ করি , ৮ : ৫-৬ ) । “ আমিই আদি এবং অন্ত , আমিই অদ্বিতীয় , আমি ছাড়া আর কোন ঈশ্বর নেই ” (যিশাইয় ৪৪ : ৬ ) । শাস্ত্রে আর কোন সত্যকে এত জোরালভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়নি । শুধু এক ঈশ্বরেরই অস্তিত্ব বর্তমান । 

( ২ ) শাস্ত্রবাক্য আমাদের সুস্পষ্টভাবে আরও শিক্ষা দেয় যে , শুধু পিতা নন , পুত্র এবং পবিত্র আত্মাও ঈশ্বর । পিতাই ঈশ্বর – এ নিয়ে কেউ তর্ক - বিতর্ক করে না , তাই শাস্ত্র অনুসারে , এই বিষয়ে আমরা একটি মাত্র শাস্ত্রবাক্য উল্লেখ করব । “ ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখেনি ; একজাত পুত্র , যিনি পিতার ক্রোড়ে থাকেন , তিনিই [তাঁকে] প্রকাশ করেছেন । ” ( যোহন ১:১৮ ) । কিন্তু শাস্ত্রবাক্য একই রকম সুস্পষ্টভাবে পুত্রকে ঈশ্বররূপে ঘােষণা করে । গীতসংহিতা ৪৫ : ৬ - এ মশীহ সম্পর্কে পাঠ করি , “ হে ঈশ্বর , তােমার সিংহাসন অনন্তকাল স্থায়ী । ” এবং যিশাইয় ৯ : ৬-৭ পদে আবার পাঠ করি : "... একটি পুত্র দেওয়া হয়েছে আমাদের ! ... তাকে বলা হবে , আশ্চর্য , মন্ত্রী উপদেষ্টা , পরাক্রমশালী ঈশ্বর সনাতন পিতা” । নতুন নিয়মে বলা হয়েছে , “ ঈশ্বরের বাক ” , ( বা বাক্য ) ( যােহন ১ : ১ ) । এবং “ সন্দেহবাদী ” থােমা যখন সত্য উপলব্ধি করতে পারলেন , তিনি যীশুর পায়ে লুটিয়ে পড়ে বললেন , “ প্রভু আমার , আমার ঈশ্বর” ( যােহন ২০:২৮ ) । তাই পুত্র খ্রীস্ট সন্দেহাতীতভাবে ঈশ্বর । কিন্তু আমরা নতুন নিয়মে আরও আবিষ্কার করব যে , খ্রীস্ট ঈশ্বরের সকল গুণের অধিকারী । তাঁর মধ্যে আছে জীবন ( যােহন ১ : ৪ ; ৫:২৬) ! তাঁর উপস্থিতি সর্বত্র ( মথি ২৮:২০ ) । তাঁর অস্তিত্ব ছিল সূচনা থেকে ( যােহন ১ : ১ ) । নতুন নিয়মের বিবরণীতে আমরা আরও লক্ষ করি , তিনি ঈশ্বরের কাজ সম্পন্ন করেছিলেন । “ সবকিছু তাঁর মাধ্যমে সৃষ্ট ” (যােহন ১ ; ৩) । সমস্ত কিছুই তিনি ধারণ করে আছেন (কলসীয় ১:১৭ ; ইব্রীয় ১ : ৩ ) । “ পিতাকে যা করতে দেখেন , তা-ই করেন তিনি ( পুত্র ) ” ( যােহন ৫:১৯ ) । আমরা দেখেছি (যােহন ২০:২৮ ) , ঈশ্বররূপে তাঁর আরাধনা করা হয়েছে। কিন্তু , পুত্র যদি এইভাবে ঈশ্বররূপে অভিহিত হন , তাঁর উপর যদি ঈশ্বরের গুণাবলি আরােপিত হয় , ঈশ্বরের কর্ম সম্পাদন করেন , এমনকী ঈশ্বরের প্রাপ্য আরাধনা লাভ করে থকেন , তা হলে , তিনি যে ঈশ্বর , এ ছাড়া আমরা আর কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি ? এবং পবিত্র আত্মা সম্পর্কেও এই একই কথা বলা যেতে পারে । প্রমাণ একই ধরনের , একই পথ ধরে এগিয়ে গেছে । সেই কারণে , প্রত্যেক ধরনের প্রমাণের আমরা শুধু একটি উদাহরণ দেব । প্রেরিত , ৫ : ৩-৪ পদে পবিত্র আত্মাকে ঈশ্বর বলা হয়েছে । "পিতর তাকে বললেন , অননীয় , শয়তান কী করে তােমার হৃদয় গ্রাস করল ? কেন তুমি জমি বিক্রির অর্থ থেকে কিছু অংশ সরিয়ে রেখে পবিত্র আত্মার কাছে মিথ্যা কথা বললে ? _... মানুষের কাছে তুমি মিথ্যা বলনি, বলেছ ঈশ্বরের কাছে । ” ১ করিন্থীয় ২:১০ পদে আমাদের বলা হয়েছে যে , পবিত্র আত্মার উপর ঈশ্বরের গুণাবলি আরােপিত হয়েছে । "পবিত্র আত্মা সবকিছুই , এমনকী ঈশ্বরের গভীর রহস্যও অনুসন্ধান করেন" । একমাত্র ঈশ্বর যা করতে পারেন , পবিত্র আত্মাও সেই কাজ করেন । “ একমাত্র ঈশ্বরের আত্মাই জীবনদায়ী (অর্থাৎ জীবনদান করেন ) [ যােহন ৬:৬৩ ] । তাই পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের প্রাপ্য আরাধনা ও সম্মানের অধিকারী হন। “ ... মানুষের সমস্ত পাপ ও ঈশ্বরনিন্দা ক্ষমা করা হবে , কিন্তু পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে নিন্দার ক্ষমা নেই ” (যােহন ১২ : ৩১ ) । আবার , আমরা দেখতে পাচ্ছি , যেহেতু পবিত্র আত্মাকে ঈশ্বর বলা হয় , তার উপর ঈশ্বরের গুণাবলি আরােপিত হয়েছে , তিনি ঈশ্বরের কাজ করেন এবং ঈশ্বররূপে আরাধ্য , তাই আমরা সিদ্ধান্ত করতে পারি যে , পবিত্র আত্মাই ঈশ্বর । 

( ৩ ) শাস্ত্রবাক্য আমাদের সুস্পষ্টভাবে ঐ কথাও জানায় যে , এই তিনটি স্বতন্ত্র ব্যক্তিসত্তা এবং পরাক্রম ও মহিমায় তাঁরা সমকক্ষ । মণ্ডলীর প্রাথমিক ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই , ত্রিত্বের রহস্য সমাধান করতে গিয়ে , মানুষ দুটি ভ্রান্তিতে পতিত হয়েছিল । ( ক ) এদের একটিকে বলা হয় “ প্রণালীবাদ ” ( Modalisnt ) । এর অর্থ , এই অভিমত অনুসারে , ঈশ্বর এক ব্যক্তিবিশেষ , কিন্তু , তিনি "বিভিন্ন ভূমিকায় অভিনয়" করেন । তিনি যেন এক অভিনেতার মতাে , অভিনেতা যেমন প্রথমে একটি চরিত্রে অভিনয় করে , এবং পরে , তাড়াতাড়ি পােশাক পরিবর্তন করে অন্য চরিত্রে অভিনয় করে । তারা বিশ্বাস করত , ঈশ্বর যখন পিতার ভূমিকায় অভিনয় করতেন , তখন পুত্র এবং পবিত্র আত্মার কোন ভূমিকা ছিল না । এবং যখন তিনি পুত্রের ভূমিকায় অভিনয় করলেন , তখন পিতা বা পবিত্র আত্মা ছিলেন না । মণ্ডলীর এই মতবাদকে প্রত্যাখ্যান করার কারণ অত্যন্ত প্রাঞ্জল । এর কারণ , ঈশ্বরত্বের তিন ব্যক্তিসত্তাই নিজেদের একই সময়ে প্রকাশ করেছেন । “ বাপ্তিস্মের পর যীশু জল থেকে উঠে এলেন । সঙ্গে সঙ্গে আকাশ উন্মুক্ত হয়ে গেল এবং তিনি দেখলেন , ঈশ্বরের আত্মা কপােতের মতাে নেমে এসে তাঁর উপরে অধিষ্ঠিত হলেন । আর স্বর্গ থেকে এই বাণী ঘােষিত হল : “ ইনিই আমার প্রিয় পুত্র , ইহাতে আমি প্রীত ” ( মথি ৩ : ১৬-১৭ ) । খ্রীস্ট যখন মানুষের সামনে এসে দাঁড়ালেন , পবিত্র আত্মা নেমে এলেন , পিতা স্বর্গ থেকে বাণী ঘােষণা করলেন । তা হলে , কেবল একজন ব্যক্তি তিনটি বিভিন্ন ভূমিকায় , একের পর এক অভিনয় করছেন , এ হতে পারে না ।  (খ) অন্যটিকে বলা হত , “ রাজতান্ত্রিক মতবাদ ” (Monarchianism) । এই শব্দটি , অবশ্যই , "রাজতন্ত্র” শব্দ থেকে এসেছে , যা একজন রাজার প্রতি নির্দেশ করে । এর মূল চিন্তা ছিল , ঈশ্বরত্বের তিন ব্যক্তিসত্তার কেবল একটিই আসলে “ রাজা ” হতে পারেন । এই মতবাদীরা সেই কারণে বলত , পিতা ঈশ্বর পুত্র বা পবিত্র আত্মার চেয়ে মহান ছিলেন । তারা বিশ্বাস করত না যে , এই তিন ব্যক্তিসত্তা পরাক্রম ও মহিমায় সমান । এই শিক্ষার সঙ্গে শাস্ত্রবাক্যের সামঞ্জস্য আছে বলে মনে করা যেতে পারত । কারণ খ্রীস্ট বলেছিলেন , “ আমার পিতা আমার চেয়ে মহান ” ( যােহন ১৪:২৮ ) । আমরা যদি শুধু এই রকম শাস্ত্রবাক্যের দিকে দৃষ্টিপাত করি , তা হলে আমরা উপলদ্ধি করতে শুরু করব যে , এই পুরনাে অভিমতের পশ্চাতে নিশ্চয় কিছু সত্যতা লুকিয়ে আছে।কিন্তু ফিলিপীয় ২ : ৬ - এর মতাে শাস্ত্রবাক্য যখন আমরা পাঠ করি , মণ্ডলী কেন এই ভ্রান্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তা আমরা দেখতে পাব । কারণ খ্রীস্ট “ স্বরূপে ঈশ্বর হয়েও ঈশ্বরের সমকক্ষ হতে চাননি । ” তাঁর অনন্ত স্বর্গীয় প্রকৃতি অনুযায়ী , খ্রীস্ট পিতার সমকক্ষ । শুধুমাত্র তাঁর মানবিক প্রকৃতি অনুসারে , এবং তিনি স্বয়ং এইভাবে অবনমিত হয়েছিলেন বলে তিনি বলতে পারেন , “ আমার পিতা আমার চেয়ে মহান । ” এ কথা মনে রাখলে , আমরা এই প্রাচীন ভ্রান্ত মতবাদের দ্বারা আকর্ষিত হব না । 


অপরিহার্য উপসংহার 

শাস্ত্রীয় প্রমাণের দ্বারা আমরা এখন ত্রিত্ব মতবাদ সম্পর্কে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে – এক ঈশ্বর — তিন সত্তা , যাঁরা ঈশ্বর — তিন সত্তাই স্বতন্ত্র । খুবই আকর্ষক যে , আমরা বহু শাস্ত্রীয় মন্তব্য পেয়েছি যা 'প্রশ্নোত্তরের ’ রূপদানের আলােক ব্যতীত কোন অর্থ বহন করে না । খ্রীস্ট “ পিতার , ও পুত্রের ও পবিত্র আত্মার নামে" বাপ্তিস্ম দিতে বলেছিলেন । ( মথি ২৮:১৯ ) । তিনি বলেননি , নামগুলির দ্বারা । তাই আমরা একটি সত্তার নির্দেশ পাচ্ছি । আবার আমরা দেখি : তিনি বলেননি যে , “ পিতার , পুত্রের ও পবিত্র আত্মার নামে ” , যেন এগুলি সমার্থক পরিভাষা । না , তিনি সতর্কভাবে এই তিনের মধ্যে পার্থক্য দেখিয়েছেন , যেন এঁদের প্রত্যেকেরই আলাদা পরিচিতি এবং ব্যক্তিত্ব আছে , অর্থাৎ “ পিতার , ও পুত্রের ও পবিত্র আত্মার । ” এবং এটাই হল ত্রিত্বের মতবাদ । অবশ্য , এ কথা সত্য যে , আমরা যখন শাস্ত্রের সমস্ত শিক্ষা বিবেচনার বিষয়ীভূত করি , মতবাদের অর্থ সম্পূর্ণভাবে উদ্ঘাটিত হয় । তবু আমরা কৌতুহলের সঙ্গে লক্ষ করি যে , এমনকী , স্বর্গীয় প্রকাশের শুরু থেকে ত্রিত্ব মতবাদের দুটি ভিত্তিমূলক সত্যের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । ঈশ্বর এক এবং বহু - এই তথ্যের উপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । “ ঈশ্বর আপনার প্রতিমূর্তিতে মনুষ্যকে সৃষ্টি করিলেন ... ( আদি . ১ : ২৬-২৭ ) । এখানে এক অনুদ্ঘাটিত রহস্য রয়ে গেছে । যতদিন না সম্পূর্ণ নতুন নিয়মে ‘ চাবি ’ প্রয়ােগ করা হচ্ছে , ঈশ্বরের ত্রি-সত্তার এই রহস্য অপ্রকাশিত থেকে যাবে ।

Post a Comment

0 Comments