Recent Post

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

প্রকৃত স্বাধীনতা (যোহন ৮ : ৩০-৩৬)

কাল আমরা এক-একজন ভারতবাসী হিসেবে ২০২০ সালের ১৫ই আগষ্ট ৭৪তম স্বাধীনতা দিবস পালন করেছি। কিন্তু আজ খৃষ্টীয় মণ্ডলীর ইতিহাসে খৃষ্ট বিশ্বাসী আমাদের কাছে প্রকৃত স্বাধীনতা কি তা আজ আমরা দেখব।


৩১শে অক্টোবরকে মণ্ডলী-সংস্কারের দিন হিসাবে স্মরণ করা হয়। তাই, বিভিন্ন প্রােটেস্টান্ট চার্চে অক্টোবর মাসের শেষ রবিবারকে মণ্ডলী সংস্কারের রবিবার (Reformation Sunday) হিসাবে পালন করা হয়। আজ থেকে প্রায় ৫০০ বৎসর পূর্বে, ১৫১৭ খ্রীস্টাব্দের ৩১ শে অক্টোবর ডক্টর মার্টিন লুথার (Dr. Martin Luther) তার ৯৫ থিসিস (Ninety - Five Thesis) জার্মানীর উইটেনবার্গের ক্যাসেল চার্চের দরজায় ঝুলিয়ে দেন। লুথারের এই কাজ যে আন্দোলনকে জন্ম দিয়েছিল, তা পৃথিবীর ইতিহাসে সংস্কার (Reformation) নামে পরিচিত। 

ঐ সময় লুথার উইটিনবার্গ থেকে ঈশতত্ত্বে ডক্টরেট লাভ করার পর, ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে সসম্মানে অধ্যাপনা করছিলেন এবং স্থানীয় ক্যাসেল চার্চে সহকারী পালকের দায়িত্বও পালন করছিলেন । রােমীয় মণ্ডলীতে ১লা নভেম্বর ‘অল সােলস্ ডে’ পালিত হত, যে দিন মণ্ডলীগৃহ লােকে লােকারণ্য হত। এই কথা স্মরণে রেখে লুথার ঠিক তার আগের দিন তার থিসিস্ ঐ মণ্ডলীর দরজায় ঝুলিয়ে দেন, যাতে পরের দিন চার্চে আগত সমস্ত ব্যক্তির দৃষ্টি এর প্রতি আকর্ষিত হয়। 

মণ্ডলী-ইতিহাসের মধ্যযুগে (৫০০-১৫০০ খ্রীস্টাব্দ) রােমীয় ক্যাথলিক মণ্ডলী মিথ্যা মতবাদ, কুসংস্কার, অজ্ঞতা ও দূষণে (corruption) পরিপূর্ণ হয়েছিল। এই সময় বেশিরভাগ খ্রীস্টবিশ্বাসী অশিক্ষিত ছিল এবং তাদের বাইবেল জ্ঞান প্রায় কিছুই ছিল না। ফলস্বরূপ, তারা ধর্মীয় শিক্ষা ও পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণভাবে পালকীয় সম্প্রদায়ের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ঐ সমস্ত শিক্ষকেরা আত্মা-শুদ্ধির স্থান (purgatory) বা কর্মের দ্বারা পরিত্রাণের ন্যায় বিভিন্ন বাইবেল বহির্ভূত শিক্ষা দিয়েছিল। এই থিসিসে লুথার রােমীয় মণ্ডলীর বিভিন্ন ভুল শিক্ষা ও মতবাদকে আক্রমণ করেন, বিশেষ করে কর্মের দ্বারা পরিত্রাণ লাভ (salvation by work) ও ইচ্ছাপূরক শংসাপত্র বিক্রির অনুশীলনকে (practice of selling indulgences) আক্রমণ করেন। এই শংসাপত্র (certificate) লােকে ইচ্ছা করলে মণ্ডলী থেকে অর্থের বিনিময়ে কিনতে পারত, যা তাদের কৃত পাপ থেকে মুক্তি দিত ও তাদের পরিত্রাণ ও অনন্ত জীবনের প্রতিজ্ঞা করত। রােমে সেন্ট পিটারস্ মণ্ডলীগৃহ নির্মাণের কাজ শেষ করার জন্য প্রয়ােজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে এবং মাইঞ্জের আর্চবিশপের কৃতঋণ শােধ করতে পােপ লিও ১০ (Pope Leo X) জার্মানীতে এই শংসাপত্র বিক্রি শুরু করেন। পােপ ঘােষনা করেন যে, যে কেউ এই শংসাপত্র কিনবে সে তার সমস্ত কৃত পাপ থেকে উদ্ধার পাবে। এখন লুথার যে প্যারিশের দায়িত্বে ছিলেন, তার কিছু সদস্যও এই শংসাপত্র কেনে ও লুথারকে এর বৈধতা সম্বন্ধে প্রশ্ন করে। লুথার বাধ্য হয়ে তার ৯৫ থিসিস্ লেখেন ও তা সকলের দৃষ্টিতে আনেন । 

বাইবেলের শিক্ষাকে তুলে ধরে লুথার শিক্ষা দেন যে শংসাপত্র কিনে, অথবা সৎকার্য বা তীর্থভ্রমন বা ভক্তির বিভিন্ন অনুশীলন করে মানুষের পক্ষে কখনও পরিত্রাণ লাভ সম্ভব নয়। তিনি আরও শিক্ষা দেন যে পরিত্রাণ হল ঈশ্বরের কাজ, যা তিনি যীশু খ্রীস্টেতে অনুগ্রহের দ্বারা বিশ্বাসের মাধ্যমে দান করে থাকেন। যীশু খ্রীস্টের জন্ম, পার্থিব জীবন, মৃত্যু ও পুনরুত্থানের দ্বারা ঈশ্বর ইতিমধ্যেই আমাদের পরিত্রাণ যুগিয়ে দিয়েছেন। তাই, কোনও ধর্মীয় অনুশীলন বা সৎকাজের দ্বারা তা অর্জন করা যায় না; কেবল বিশ্বাসের মাধ্যমে তা গ্রহণ করতে হয়। 

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লুথারের ল্যাটিন ভাষায় লেখা এই থিসিস্ জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়ে প্রিন্টিং মেশিনের সৌজন্যে সমগ্র জার্মানীতে এবং ইউরােপে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার ৩ বৎসর পরে, লুথারকে তৎকালীন পােপ রােমীয় মণ্ডলী থেকে বহিষ্কার করেন ও ভ্রান্তশিক্ষক (heretic) আখ্যা দেন। এর থেকেই মণ্ডলী-সংস্কারের কাজ শুর হয়। ঈশ্বর লুথারের ন্যায় একাধিক বিচক্ষণ বাইবেল-প্রেমী দাসদের তােলেন, যাদের মধ্যে ফিলিপ মেলাঙ্কটন, জন ক্যালভিন, উলরিচ্ চ্যুবিংলী, বুলিঙ্গার বিশেষ উল্লেখযােগ্য। এদেরই নেতৃত্বে কেবল শাস্ত্রের দ্বারা (sola scriptura), কেবল বিশ্বাসের দ্বারা (sola fide) , কেবল অনুগ্রহের দ্বারা (sola gratia), কেবল খ্রীস্ট (solas christus) ও কেবল ঈশ্বরের গৌরব (soli deo gloria) তথা বাইবেলকে ভিত্তি করে যে মণ্ডলী সংস্কারের আন্দোলন শুরু হয়, রােমীয় মণ্ডলী তাকে ব্যঙ্গ করে প্রােটেস্টান্ট আখ্যা দেয়। আমরা তাদের ব্যঙ্গকেই আমাদের নাম বলে গ্রহণ করি। 

আজ যখন আমরা যােড়শ শতাব্দীর মণ্ডলী-সংস্কারকে স্মরণ করে ঈশ্বর আরাধনায় মিলিত হয়েছি, আমরা নতুন করে আমাদের জীবনে বিশ্বাস ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে পবিত্র শাস্ত্র তথা ঈশ্বরের বাক্যের চরম ক্ষমতাকে স্বীকার করতে চলেছি। তাই, আজ আমরা যােহন ৮:৩০-৩৬ পদে যীশুর কথার মাধ্যমে প্রকৃত স্বাধীনতা কী, তা উপলব্ধি করতে চলেছি। 

আজকের দিনে "স্বাধীনতার" প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করে, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। বেশিরভাগ মানুষ মনে করে, এর অর্থ “নিজের যা ইচ্ছা তা-ই করা।” তাই, অপব্যয়ী কনিষ্ট পুত্রের মতাে নিজেদের ইচ্ছা মতাে জীবন-যাপন করার পর আমরাও উপলব্ধি করি যে, তার দ্বারা আমরা অন্য এক প্রকার দাসত্বে আবদ্ধ হয়ে পড়েছি। প্রকৃত স্বাধীনতার অর্থ, “ঈশ্বর যে উদ্দেশ্যে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন, সেই উদ্দেশ্যপূরক ব্যক্তি হওয়া।” 

যােহন ৮:৩০ পদে, “যারা তাঁকে বিশ্বাস করেছিল,” ৩১ পদে যীশু তাদের উদ্দেশ্যে বলছেন যে, “তােমরা যদি আমার বাক্যে স্থির থাক, তাহলে সত্যই তােমরা আমার শিষ্য।” আবার ৩৩ পদে আমরা দেখতে পাই যে, এরাই কিন্তু যীশুর কথার বিরােধিতা করেছে, এবং ৩৭ পদানুসারে তারা যীশুকে বধ করারও মতলব এঁটেছে। এর থেকে কিন্তু আমরা এমন কথা বলতে পারি না যে, ৩০ পদে যে দলের লােকদের কথা বলা হয়েছে, তারা পরবর্তী পদের লােকদের দল থেকে পৃথক। পরিবর্তে, আমরা বলতে পারি যে একই দলের লােকদের দুটি বিপরীত ধর্মী ভঙ্গিমা বা আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। কারণ, ৩১ পদে যীশু যেই তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, যীশুকে কেবল মনে মনে তাদের স্বপ্নের মশীহ হিসাবে গ্রহণ করলেই হবে না, কিন্তু শয়তান ও পাপের দাসত্ব থেকে মুক্তিদানকারী ব্যক্তি হিসাবে যীশুকে তাদের ব্যক্তিগত পরিত্রাতা হিসাবে গ্রহণ ও তাঁর কাছে নিজেদের সমর্পণ করতে হবে, তখনই তারা চটে গেছে ও যীশুর প্রতি তাদের বিশ্বাসও হারিয়েছে। 

এখন “যীশুর বাক্যে স্থির থাকার’' অর্থ যীশুর প্রতি বাধ্যতার জীবন যাপন। আর যীশুর প্রতি এই বাধ্যতার জীবনই প্রকৃত শিষ্যত্নের প্রকাশ। কেবল তাই নয়, এই বাধ্যতা শিষ্যদের সত্য সম্বন্ধে খাটি জ্ঞান দেয়, “আর তােমরা সেই সত্য জানবে” (৩২ক)। এ হল সেই সত্য, যা ঈশ্বরের বিশেষ প্রকাশ এবং যার কেন্দ্রে খ্রীস্টের কাজ বর্তমান। আর এই সত্যজ্ঞানই আমাদের দেয় স্বাধীনতা, “সেই সত্য তােমাদের স্বাধীন করবে” (৩২খ)। পরবর্তী পদে, খ্রীস্ট নিজে এই স্বাধীনতার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, তা এমন জীবন, যার উপর পাপ কর্তৃত্ব করে না, কিন্তু খ্রীস্টের বাক্য তার জীবনে ও হৃদয়ে পরিচালনা দেয় (৩৪, ৩৫, ৩৭)। তাই, প্রকৃত স্বাধীনতার অর্থ, যা ইচ্ছা তা-ই করা নয়, কিন্তু যা করা উচিৎ তা করতে ইচ্ছা করা ও তা করতে পারা। 

এখন যীশুর এই কথার অর্থ, তার শ্রোতারা আত্মিকভাবে স্বাধীন নয়, এখনও দাস হয়ে আছে। এই কথা শুনে সেই সমস্ত ইহুদীরা, যারা তাঁকে বিশ্বাস করেছিল, প্রচণ্ড ধাক্কা খায় ও চটে যায়। যীশুর কথার প্রতিবাদ করে তারা বলে যে, “আমরা অব্রাহামের বংশ, কখনও কারও দাস হইনি” (৩৩ক)। এখন এই কথা যখন তারা বলছে, বুঝতে হবে যে, তারা তাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা নিশ্চয়ই বলছে না। কারণ, তারা এত সহজে তাদের ইতিহাস ভুলে যেতে পারে না, যা সাক্ষ্য দেয় যে তারা মিশর, অসরীয়া, ব্যাবিলন, মিদীয়-পারস্য, সিরীয়ার দাসত্ব ভােগ করেছে; এবং যীশুর সময় রােমের দাসত্ব ভােগ করে চলেছে। আবার, তারা তাদের সামাজিক ব্যবস্থাকেও নির্দেশ করছে না, কারণ তাদের মধ্যে অনেক ইহুদী দাসও ছিল। যারা যীশুর কথার উত্তর দিচ্ছে, তারা তাদের ইতিহাস ও ধর্ম ভালাে করে জানত। তাই, তারা এখানে ঈশ্বরের সামনে তাদের স্বাধীনতার কথা বলছে। ধর্মীয় পটভূমিকায়, তারা নিজেদের অব্রাহামের বংশধর বলে গর্ব করে, যে অব্রাহামের সঙ্গে ঈশ্বর অনুগ্রহের চুক্তি করেছিলেন (আদি ১৭:১৭)। তাই, এই পৃথিবীর মাটিতে জাতি হিসাবে তারা ঈশ্বরের সামনে অদ্বিতীয় সম্মানে সম্মানিত। তারা নিজেদের সম্বন্ধে যে সমস্ত কথা প্রযােজ্য জ্ঞান করে, তা হল, মনােনীত জাতি, রাজকীয় যাজকত্ব, ঈশ্বরের নিজের প্রজা (যাত্রা ১৯ : ৬; দ্বি. বি. ৭ : ৬; ১০:১৫; ১ পিতর ২ : ৯)। তারা স্মরণে রেখেছে ঈশ্বরের সেই প্রতিজ্ঞা, “আমি পৃথিবীস্থ সমস্ত গােষ্ঠীর মধ্যে তােমাদের পরিচয় নিয়েছি ” (আমােষ ৩ : ২ক)। কিন্তু ঐ পদেরই শেষাংশ তারা ভুলে গেছে, “এইজন্য তােমাদের সমস্ত অপরাধ ধরে তােমাদের প্রতিফল দেব” (আমােষ ৩:২খ)। অব্রাহামের শারিরিক উত্তরাধিকারী হিসাবে তারা নিজেদের স্বাধীন জ্ঞান করে। তাদের চিন্তায়, পরজাতিরা প্রতিমা পূজা বা বহুঈশ্বরবাদের দ্বারা দাসত্বের জীবনে আছে। কিন্তু তারা অব্রাহামের বংশধর হিসাবে সত্য ঈশ্বর আরাধনার একচেটিয়া অধিকারী, তারা স্বাধীন। জন্মসূত্রেই তারা ঈশ্বরের প্রজা এবং বাহ্যিক ধর্মীয় আচার-আচরণই তার ছাড়পত্র। 

আজকের দিনেও এই একই সমস্যা অনেক মানুষকে যীশুর শিষ্য হবার পথে বাধা তৈরী করে। তারা অন্যদের তুলনায় নিজেদের নৈতিক জীবন সম্বন্ধে যথেষ্ট আশাবাদী; তাই, যীশুকে বিশ্বাসের দ্বারা তারা কেবল তাদের নৈতিক মানের উন্নতি চেষ্টা করে। তাদের জীবনে প্রকৃত পাপের দাসত্বকে তারা স্বীকার করে না, নিজেদের যথেষ্ট স্বাধীন জ্ঞান করে (উদা : ভ্রমণ পুস্তকে কলকাতার বর্ণনা)। 

তখন যীশু তাদের স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, "যে কেউ পাপাচারণ করে, সে পাপের দাস” (৩৪খ)। যখন তাঁর শ্রোতারা নিজেদের ইহুদী বলে নিজেদের পৃথক করতে চাইছিল, যীশু কিন্তু তাঁর উত্তরে ঈশ্বর ও তাঁর পবিত্র বিধানের সামনে ইহুদী ও পরজাতির মধ্যে অবস্থানগত পার্থক্যকে তৎক্ষণাৎ মুছে ফেললেন। তিনি বললেন, “যে কেউ ...।” গ্রীকভাষায় “পাপাচারণ করার" জন্য যে কাল (tense) ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ, “যে ক্রমশ, ধারাবাহিকভাবে পাপ করে চলেছে, বা যে পাপের মধ্যে জীবন-যাপন করে চলেছে।” ১ যােহন ৩ : ৬ পদে, “যে কেউ যীশুতে থাকে, সে পাপ করে না; যে কেউ পাপ করে সে যীশুকে দেখেনি এবং জানেও না" বলা হয়েছে । একথার অর্থ এই নয় যে, মানুষ নিস্পাপ জীবন-যাপন করতে সক্ষম; কারণ এই কথা বলার আগে যােহন স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, “আমরা যদি বলি আমাদের পাপ নেই, তবে নিজেরা নিজেদের ভুলাই, সত্য আমাদের অন্তরে নেই” (১ যােহন ১ : ৮)। এখানে, এমন পাপীকে নির্দেশ করা হয়েছে, যে ক্রমশ, ধারাবাহিকভাবে ঈশ্বরের গৌরবকীর্তন থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট (বিচার ২০:১৬) হয়ে চলেছে কিন্তু তাতে আনন্দ করে চলেছে। 

এমন ব্যক্তিকে যীশু এখানে পাপের দাস বলেছেন (রােমীয় ৬:১৬; ১১:৩২; ২ পিতর ২:১৯)। সে একজন দাস, কারণ তার উপর পাপ জয়লাভ করেছে, পাপ তার উপর বন্দিত্ব চালাচ্ছে, সে নিজে সেই দাসত্ব থেকে নিজেকে উদ্ধার করতে পারে না। এইভাবে, আমরা যখন ঈশ্বরের বাক্যের বিপরীত পথে চলি ও তার বিরুদ্ধে চিন্তা বা কাজ করি; আমরা পাপের দাস হই। আস্তে আস্তে আমরা সেই পাপের দ্বারা এতােখানি নিয়ন্ত্রিত হই যে, আমরা তা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারি না (উদা : সিগারেট)। 

৩৫ পদে, যীশু তার শ্রোতাদের পাপের প্রতি দাসত্বের আরও একটি সত্য তুলে ধরেছেন। দাস তার প্রভুর ঘরের সুখ-সুবিধা কিছুকালের জন্য ভােগ করলেও করতে পারে (ইব্রীয় ১১ : ২৫ক), কিন্তু চিরকালের জন্য নয়। যে কোনও মুহূর্তে তাকে কাজ থেকে ছাঁটাই করে দেওয়া যেতে পারে বা বিক্রী করে দেওয়া যেতে পারে। একইভাবে, যে ইহুদীরা অব্রাহামের শারিরিক বংশধর হিসাবে গর্ব করে, তাদেরও যীশু এই সত্য মনে রাখতে বলছেন। অব্রাহামের প্রকৃত সন্তানরা তার গৃহে চিরকালের জন্য সুবিধাভােগ করলেও, অব্রাহামের দাসদের (হাগারে কথা চিন্তা করা যেতে পারে, গালা ৪ : ২১-৩১) বের করে দেওয়া হবে। যীশু তাদের উদ্দেশ্যে বলছেন, “তােমরা ভাবছ যে তােমরা অব্রাহামের বংশধর, তাই তার বটিতে আছ। কিন্তু তােমরা তার সন্তান হিসাবে নও, দাস হিসাবেই তার বাটিতে আছ। অতএব, সাবধান"। 

কিন্তু পুত্র তার পিতার বাটিতে চিরকাল বসবাসের অধিকারী। তাই, “পুত্র যদি তােমাদের স্বাধীন করেন, তবে তােমরা প্রকৃতরূপে স্বাধীন হবে” (৩৬ পদ)। অথাৎ, মনুষ্যপুত্রই কেবল তাদের প্রকৃত স্বাধীনতা দিতে পারেন।এই স্বাধীনতা প্রকৃত, কারণ, ( ১ ) এই স্বাধীনতা পাপের দাসত্ব থেকে স্বাধীনতা, পাপের বিভিন্ন লক্ষণ থেকে নয় এবং ( ২ ) তিনি তাদের কেবল পাপের দাসত্ব থেকে মুক্ত করেন না, কিন্তু নিজের সন্তান করে গ্রহণও করেন। যখন আমরা যীশুতে বিশ্বাস করি এবং তাঁর বাধ্য হই, তিনি আমাদের তাঁর মতাে করেন। তিনি আমাদের পুত্র-কন্যা করেন, যারা চিরকাল তাদের পিতার গৃহে বসবাস করে। আপনি কি তাঁর সন্তান হিসাবে আপনার জীবনে প্রকৃত স্বাধীনতা ভােগ করে চলেছেন?

Post a Comment

0 Comments