Recent Post

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

ঈশ্বর কী ?

                ঈশ্বর এক আত্মা ’ , অসীম , অনন্ত এবং অপরিবর্তনীয় । তাঁর সত্তায় প্রজ্ঞা , শক্তি , পবিত্রতা , ন্যায়পরায়ণতা , মাধুর্য এবং সত্য বিদ্যমান ।  

১, ঈশ্বর হলেন আত্মা । তাঁর উপাসনা যারা করবে , আত্মায় ও সত্যেই তাদের উপাসনা করতে হবে ( যােহন ৪:২৪ ) । 

২. তােমার এ বিশ্বজগৎ সৃজনের আগে , পর্বতসমূহেরও সৃষ্টির আগে , আদিকাল থেকে অনন্তকাল অবধি তুমিই ঈশ্বর ( গীতসংহিতা ৯০ : ২ ) । 

৩. আমি সদাপ্রভু, আমার পরিবর্তন নেই (মালাখি ৩ : ৬) । 

৪, ঈশ্বর মােশিকে বললেন , “ আমি যে আছি , সেই আছি ( যাত্রা ৩:১৪ ) । মহান আমাদের প্রভু পরমেশ্বর ... অসীম , অপরিমেয় তাঁর প্রজ্ঞা ( গীত ১৪৭ : ৫ ) । দিবস রজনী অবিরাম তাঁর উচ্চারণ করে চলেছেন , “ পবিত্র , পবিত্র , পবিত্র , প্রভু সর্বশক্তিমান ঈশ্বর , .... ( প্রকাশিত বাক্য ৪ : ৮ ) । হে প্রভু , তােমাকে কে না ভয় করে ? কারণ একমাত্র তুমিই পবিত্র ( প্রকাশিত বাক্য ১৫ : ৪ ) । আমি স্নেহশীল ও করুণাময় , ... অসীম আমার প্রেম , অবিচল আমার সত্যনিষ্ঠা । ... অধর্মাচারীদের পাপের প্রতিফল তৃতীয় ও চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত বর্তাই ( যাত্রাপুস্তক ৩৪ : ৬-৭ ) । 

        যীশু বলেছিলেন , “ ঈশ্বর আত্মা ” ( যােহন ৪:২৪ ) । প্রশ্নোত্তরের এই অংশে সেই আত্মার প্রকৃতির সংজ্ঞার্থ দেওয়া হয়েছে । ঈশ্বরই সেই আত্মা যার কিছু গুণাবলি (বা বৈশিষ্ট্য ) আছে । এই গুণাবলি তাঁকে অন্য সব অস্তিত্বশীল সত্তা থেকে পৃথক করেছে । অন্যভাবে বলা যায় , “ ঈশ্বর আত্মা ” এ কথা বলা যথার্থ হবে না । কারণ ঈশ্বরই একমাত্র আত্মা নন । বাইবেল বলে যে , স্বর্গদূতরা সেবাকারী আত্মা । যারা পরিত্রাণের অধিকারী হবে , স্বর্গদূতরা তাদের পরিচর্যায় প্রেরিত (ইব্রীয় ১:১৪) । আমরা যদি শুধু বলি , ঈশ্বর আত্মা , তা হলে আমরা ঈশ্বর এবং অন্য আত্মার পার্থক্য নির্ণয় করতে ব্যর্থ হব । (এ এক ধরনের সর্বেশ্বরবাদ ( Pantheism ) হতে পারে যা শিক্ষা দেয় , প্রত্যেক আত্মা ঈশ্বরের অঙ্গ বা প্রকাশ !) কিন্তু যখন আমরা বলি , ঈশ্বর এক আত্মা , আমরা সুস্পষ্টভাবে বলি যে , তিনি অন্যান্য সত্তা থেকে পৃথক ।

“ আত্মা ” শব্দের অর্থ 

কিন্তু এক আত্মা ” কী ? বাইবেল বলে , “ মনুষ্যের বিষয়গুলি মনুষ্যদের মধ্যে কে জানে ? কেবল মনুষ্যের অন্তরস্থ আত্মা জানে ( ১ করি . ২:১১ ) । চিন্তাভাবনা করা , জানা , মানুষের আত্মার একটি কাজ । এবং মানুষের আত্মাকে ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে , কারণ মানুষ ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট হয়েছিল । মানুষের আত্মা অবস্তুগত : একে দেখা যায় না , অনুভব করা যায় না ; ওজন বা পরিমাপ করা যায় না । আমরা বলতে পারি যে , “ মানুষের আত্মা ” মানুষের চিন্তাভাবনার সদৃশ । কিন্তু যখন আমরা এ সমস্ত কথা বলছি , তখনও আমাদের স্বীকার করতে হবে যে , আত্মার যথাযথ সংজ্ঞার্থ বা বর্ণনা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর । যখন আমরা জিজ্ঞাসা করি , আত্মা কী , আমাদের স্বীকার করতে হবে যে , আমরা এই প্রশ্নের পুরােপুরি উত্তর দিতে পারি না । এখানে রহস্যের এক উপাদান আছে যা আমরা অতিক্রম করতে পারি না । কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল , আমরা যখন স্বীকার করি যে , ঈশ্বর এক আত্মা , তখন ঈশ্বরের কোনাে বস্তুগত উপাদান আছে , সে - কথা আমরা অস্বীকার করি । শিশুদের জন্য প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে : ঈশ্বরের মানুষের মতাে দেহ নেই । ঈশ্বর অদৃশ্য । কেউ কখনও ঈশ্বরকে দেখেনি এবং পার্থিব চোখ দিয়ে কোনাে মানুষ ঈশ্বরকে কখনও দেখতে পারে না ( যােহন ১:১৮ ; ১ যােহন ৪:১২ ; ইত্যাদি ) । কোনাে ধরনের অবয়ব মূর্তি বা ছবির দ্বারা ঈশ্বরকে দৃশ্যমান করার প্রচেষ্টা এক পাপ ( দ্বিতীয় আজ্ঞার বিরুদ্ধে ) – যাত্রাপুস্তক ২০ : ৪ । ভাববাদী যিশাইয় জিজ্ঞাসা করেছেন : “ কার সঙ্গে ঈশ্বরের তুলনা চলে ? কীসের সাদৃশ্যে ব্যাখ্য করা যায় তাঁর ? ” ( ৪০:১৮ ) । এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন , “চেয়ে দেখ উর্ধ্বে , আকাশের দিকে ! কে সৃষ্টি করেছে এই নক্ষত্ররাজি ? স্রষ্টা সেই ঈশ্বর , ... ( ৪০:২৬ ) । 


তা হলে , শুধু পরােক্ষভাবে আমরা তাঁকে "দেখার" কথা বলতে পারি । তাঁর সৃষ্ট বস্তুর “ প্রতিফলনের " মধ্যে তাঁকে দেখতে শিখলে , তবেই আমরা তাঁকে দেখতে পারি। ৪.১ চিত্ররূপে আমরা এই সত্যকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব । প্রথম ভাগে , একটি বালককে ( ধরা যাক তার নাম মুকুল ) দেখাই , সে আয়নায় তার প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে । আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি যে , দুটি বিষয় সত্য । ( ১ ) প্রথম , আমরা দেখি যে , মুকুল এবং তার প্রতিচ্ছবি সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন , কারণ একজন বাস্তব বা জীবন্ত , এবং অন্যজন তা নয় । ( ২ ) দ্বিতীয়ত, আমরা দেখতে পাই , তারা একেবারে একই রকমের , কারণ অনুপুঙ্খভাবে , প্রতিচ্ছবিটি মুকুলেরই প্রতিমূর্তি । 

একটি সাদৃশ্য 

আমরা ঈশ্বরের সৃষ্ট মানুষের সঙ্গে যখন ঈশ্বরের তুলনা করি , তা অনেকাংশে একই রকমের । আমরা এই একই রকমের দুটি বিষয় দেখি । ( ১ ) প্রথম , আমরা দেখি , ঈশ্বর মানুষের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক । ( ২ ) দ্বিতীয় , তবুও আমরা দেখব , মানুষ ঈশ্বরের হুবহু প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট হয়েছিল । আমাদের অধ্যয়নের এই অংশে আমরা যে - বিষয়টি শিখতে চাই : তা হল এই বিষয়ের মধ্য দিয়ে প্রশ্নোত্তরের প্রশ্ন ঈশ্বর সম্পর্কে আমাদের কী শিক্ষা দেয়। ঈশ্বরের কোনও চিত্র অঙ্কন না - করে , ( যেহেতু এ ঠিক নয় ) , এই বিষয়টি আমরা দ্বিতীয় ভাগে দেখিয়েছি । এখন আপনি দেখতে পাচ্ছেন ঈশ্বরের কিছু গুণাবলি (বৈশিষ্ট্য ) আছে , যা তিনি মানুষের সঙ্গে "ভাগ" করে নিতে চান না । ঈশ্বর হলেন অসীম , কিন্তু মানুষ সসীম । ঈশ্বর চিরন্তন , কিন্তু মানুষ চিরন্তন নয় । ঈশ্বর পরিবর্তনশীল নয় , কিন্তু মানুষ পরিবর্তনশীল । এই গুণাবলিকে আমরা বলি যােগাযােগের অসাধ্য , কারণ এগুলি কেবল ঈশ্বরেরই । এগুলি তিনি মানুষকে দেন না; তিনি নিজেরই জন্য রেখে দেন । ( এ যেন সেই মুকুল যে আয়নায় তার প্রতিমূর্তিকে তার নিজের স্বাস্থ্যকর মাংসের রূপ দিতে পারে না । ) কিন্তু আমরা এ - ও দেখি যে , ঈশ্বরের এমন কিছু গুণাবলি আছে , যা তিনি মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেন । কারণ ঈশ্বর মানুষকে (পতনের পূর্বে ) সত্ত্বা , প্রজ্ঞা , পরাক্রম ইত্যাদি দিয়েছিলেন । এই সমস্ত গুণাবলিকে আমরা বলি যােগাযােগের সাধ্য গুণাবলি । কারণ মানুষ যাতে ঈশ্বর - সদৃশ হতে পারে , এ জন্য তাদের সেই গুণাবলি দেন । (এ কতকটা এই রকমের , মুকুল আয়নায় তার প্রতিচ্ছবিকে একই রঙের চুল , চোখ , সেই একই হাসি ইত্যাদি দিয়ে থাকে । ) 

কিন্তু এখন আমরা সবচেয়ে দুরূহ – এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলােচনা করব । আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে , যােগাযােগের অসাধ্য গুণাবলির কথা বললেও , আমাদের মনে রাখতে হবে , ঈশ্বর এবং তার প্রতিমূর্তির ( মানুষ ) মধ্যে পার্থক্য আছে। ( মুকুল এবং আয়নায় তার প্রতিমূর্তির মধ্যে যেমন আছে। ) মুকুল এবং তার প্রতিমূর্তি – দুজনের মুখেই হাসি লেগে আছে । এ কি একই রকমের হাসি ? না ! এ নিয়ে চিন্তা করলে আমরা বুঝতে পারব যে , দুজনের হাসি এক নয় । কারণ মুকুলের হাসি বাস্তব হাসি , এবং প্রতিমূর্তির হাসি একটা হাসির প্রতিচ্ছবি মাত্র । মুকুলের হাসি মহত্তর । কারণ তা বাস্তব । ঈশ্বরের অপরকে জানানাে - সাধ্য গুণাবলির ক্ষেত্রেও ( প্রজ্ঞা , শক্তি , পবিত্রতা ইত্যাদি ) একই কথা প্রযােজ্য । ঈশ্বরের এই গুণাবলি মানুষের চেয়ে অনেক উচ্চ স্তরের । অন্যভাবে বলা যায় , ঈশ্বরের প্রজ্ঞা সর্বদা অসীম , অনন্ত , এবং অপরিবর্তনশীল । তাঁর শক্তি অসীম , অনন্ত এবং পরিবর্তনের উর্ধে । অথচ , মানুষের প্রজ্ঞা , বা মানুষের শক্তি সর্বদা সসীম , সাময়িক পরিবর্তনসাধ্য ( এ যেন , মুকুলের চুল এবং চোখ সর্বদা বাস্তব , এবং তার প্রতিমূর্তির চুল এবং চোখ সর্বদা অবাস্তব । ) 

নরাত্মারোপ (Anthropomorphism ) 

‘ প্রশ্নোত্তরের ' শিক্ষা আয়ত্ত করার সময় দুটি প্রশ্ন উথিত হয় । এখন আমরা সংক্ষেপে সেগুলি নিয়ে আলােচনা করব । ( ১ ) প্রথম , ঈশ্বর যদি আত্মা হন , তা হলে বাইবেল কী করে তাঁর সম্পর্কে এমন মন্তব্য করে , যে তাঁর দৈহিক অঙ্গ ছিল ? আমরা “ পরমেশ্বরের হস্ত (যিহােশূয় ৪:২৪ ) , “ পরমেশ্বরের চক্ষু ” ( ১ রাজাবলি ১৫ : ৫ ) প্রভৃতি শব্দসমষ্টি বাইবেলের মধ্যে দেখতে পাই। যাত্রাপুস্তক ২৪ : ১০ - এ আমরা পাঠ করি , “ মােশি এবং অন্যান্যরা ” ইস্রায়েলীদের আরাধ্য ঈশ্বরের দর্শন লাভ করলেন । তাঁর চরণতলে ছিল আকাশের স্বচ্ছ নীলের মতাে নীলকান্ত মণির শিলাপীঠ । ” নিঃসন্দেহে বলা যায় , শাস্ত্রবাক্যে কতকগুলি স্থানে ঈশ্বরকে মানবিক পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হয়েছে , যা অন্য কোনভাবে আমরা বুঝতে পারতাম না । কিন্তু ঈশ্বরের অবয়ব সম্পর্কিত এই সব পদের অনেকগুলিতে মানবিক আকারে দেখান হয়েছে , এবং লােকেরা যা দেখেছিল , এগুলি তার সত্যিকারের বর্ণনা । কিন্তু আমরা এর কারণ জানি । স্বর্গদূতরা ( যারা ছিলেন আত্মা ) যেমন মানুষের মূর্তি ধারণ করে আবির্ভূত হতে পারতেন , পুরাতন নিয়মের ইতিহাসের কালে খ্রীস্টও তেমনই একই ভাবে অবয়ব ধারণ করেছিলেন ( আদি , ১৮ : ১-৫ , ১৬-২৫ , ইত্যাদি দেখুন ) । কেলভিন একে বলেছিলেন , ঈশ্বর - মানবরূপে " তাঁর ভাবী প্রকাশের ভূমিকাস্বরূপ ” । আমাদের প্রভু , অবশ্যই ঈশ্বর , কিন্তু এখন তাঁর হাত , পা ইত্যাদি আছে ( কারণ তিনি প্রকৃত মানবিক প্রকৃতির অধিকারী ) । 

( ২ ) দ্বিতীয়ত , ঈশ্বর যদি অপরিবর্তনীয় হন , তাহলে বাইবেল তাঁর সম্পর্কে কীভাবে বলে যে , তিনি যেন পরিবর্তিত হচ্ছেন ! আদিপুস্তক ৬ : ৬ - এ আমরা পাঠ করি , “ সদাপ্রভু পৃথিবীতে মনুষ্যের নির্মাণ প্রযুক্ত অনুশােচনা করিলেন ও মনঃপীড়া পাইলেন । ” কোনাে মানুষ যখন অনুতাপ করে , তার মানসিক পরিবর্তন ঘটে । কিন্তু ঈশ্বর যদি অপরিবর্তনীয় হন , তা হলে কীভাবে তিনি অনুশােচনা করতে পারেন ? এর উত্তর , শাস্ত্রবাক্য যখন ঈশ্বর সম্পর্কে এই রকম উক্তি করে , তা আমাদের সর্বদা প্রথমেই বলে যে , প্রকৃতপক্ষে মানুষই পরিবর্তিত হয়েছে । মানুষ ঈশ্বরের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি বা ঈশ্বরের সঙ্গে তার সম্বন্ধকে পরিবর্তন করে । মানুষের নিজের এই পরিবর্তন থেকে মানুষের সঙ্গে ঈশ্বরের আচরণের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের মধ্যে কোন পরিবর্তন হয়নি , পরিবর্তন হয়েছে মানুষের মধ্যে । ঈশ্বর সব সময়েই পবিত্র । কিন্তু মানুষ যখন ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করে , সে ঈশ্বরের পবিত্র ক্রোধের সম্মুখীন হয় , যা ঈশ্বর সর্বদা পাপের বিরুদ্ধে করে থাকেন । ঈশ্বরের পরিবর্তন না - হওয়ার কারণ তিনি নিজেকে অস্বীকার করতে পারেন না ( ২ তীমথি ২:১৩ দেখুন ) । অন্যভাবে বলা যেতে পারে , ঈশ্বর তাঁর নিজস্ব নিখুঁত প্রকৃতির দ্বারা যা করেন , তারই দ্বারা সর্বদা নির্ধারিত হয়ে থাকেন । তাই যখন কোন উত্তম সৃষ্টি মন্দে পরিণত হয় , ঈশ্বর স্বাভাবিকভাবেই মর্মপীড়া অনুভব করেন । তাঁর নিজস্ব অপরিবর্তনীয় পবিত্রতার জন্য তিনি কিছু করতে পারেন না ।

Post a Comment

0 Comments