ঊর,
হারণ ও কানন (Ur,
Haran & Canaan)
আদি ১১:২৭-৩২ (Genesis 11:27-32)
পরিবারে ছোট হয়ে জন্ম-গ্রহণ
করলে অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা যায়। আপনি যদি অনেক ভাই-বোনদের মাঝে ছোট হয়ে জন্ম-গ্রহণ
করে থাকেন, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই ছোট হবার সুবাধে কী কী সুবিধা ভোগ করা যায়, তা জানেন।
প্রথমতঃ বাবা-মারা সাধারণত ছোটদের প্রতি অন্যদের তুলনায় একটু বেশি আদর দিয়ে থাকেন।
আবার শৃঙ্খলা পালনের দায়িত্বেও ছোটদের বিভিন্ন ছাড় দেওয়া হয়ে থাকে। যদিও, বড় হবার
পর এ বিষয়টি খুব একটা উপকারী বলে মনে হয় না; কিন্তু ছোটবেলায় একে বিশেষ সুবিধা বলেই
মনে হয়ে থাকে। কিন্তু পরিবারে ছোট হবার সুবাধে সবথেকে মুল্যবান যে সুবিধা আমরা লাভ
করে থাকি, তা হল, বড়দের দেখবার সুযোগ ও তাদের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেবার সুযোগ। তাদের
দেখে আমরা আমাদের জীবনে কী কী গ্রহণ করব বা কী কী বর্জন করব, তা স্থির করতে বিভিন্ন
সুবিধা পাই। বড় হবার সময়, আমি উপলব্ধি করতে পারিনি যে তারা আমার কাছে উদাহরণ। তবুও
তারা যে সমস্ত ভুল করে, তা দেখে, আমরা চেষ্টা করি নিজেদের সেই সমস্ত ভুল থেকে দূরে
রাখতে; আবার তারা যে সমস্ত সঠিক পদক্ষেপ নেয়, আমরা চেষ্টা করি নিজেরা তা থেকে শিক্ষা
গ্রহণ করতে।
খ্রীস্টবিশ্বাসী হিসাবে
আমরা ক্রুশ থেকে ২,০০০ বৎসর দূরে অবস্থান করছি। তাই, আমরাও আমাদের পূর্বের খ্রীস্টবিশ্বাসীদের
কাছ থেকে শিক্ষা ও সাহায্য নেবার সুযোগ পেয়েছি। এক দিক থেকে আমরা আমাদের পূর্বের বিশ্বাসীদের
সঙ্গে সম্পর্কে ছোট ভাই বা বোন; তাই, আমরা আমাদের জীবনে বিভিন্ন সিদ্ধন্তের ক্ষেত্রে
তাদের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিতে পারি। ইব্রীয় ১২.১ পদে, তাই এমন কথা বলা হয়েছে, “অতএব, এমন বৃহৎ সাক্ষিমেঘে
বেষ্টিত হওয়াতে আইস, আমরাও সমস্ত বোঝা ও সহজ বাধাজনক পাপ ফেলিয়া দিয়া ধৈর্যপূর্বক
আমাদের সম্মুখস্থ ধাবনক্ষেত্রে দৌড়ি।” সমস্ত বোঝা ও সহজ বাধাজনক
পাপ ফেলে অগ্রস্বর হবার আদেশ করার আগে, কারণ হিসাবে আমাদের পূর্বে বিভিন্ন বিশ্বাসী
ও বিশ্বাসিনীদের অবস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সহজ কথায়, আমরা যদি আমাদের বিশ্বাস-জীবনে
সহজে পতিত না হতে চাই, তাহলে আমাদের উচিৎ আমাদের পূর্বের বিশ্বাসী ও বিশ্বাসীনীদের
জীবন থেকে শিক্ষা ও সাহায্য গ্রহণ করা। ইব্রীয় ১১ অধ্যায়ে, আমাদের যে সমস্ত বিশ্বাসের
পূর্বপুরুষদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের প্রায় প্রত্যেকের নামের আগে যে কথা বলা
হয়েছে, তা হল “বিশ্বাসে”। আমাদের এই সমস্ত বিশ্বাসের
পূর্বপুরুষরা যদিও নিখুঁত ছিলেন না; তবুও তারা সমস্ত বোঝা ও সহজ বাধাজনক পাপ ফেলে ধৈর্যপূর্বক
তাদের সম্মুখস্থ ধানক্ষেত্রে দৌড়েছিল। এ কথা সমসাময়িক খ্রীস্টবিশ্বাসী আমাদের ক্ষেত্রেও
সম্পূর্ণ প্রযোজ্য। আমরা যদিও আমাদের বিশ্বাস জীবন নিখুঁতভাবে যাপন করতে পারি না, তথাপি
আমরা আমাদের বিশ্বাসের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারি - তাদের ভুলকে এড়িয়ে
চলার দ্বারা ও তাদের সঠিক সিদ্ধান্তকে অনুসরণ করার দ্বারা। ১করিন্থিয় ১০:১১ পদেও একই
কথা বলা হয়েছে, “এই সকল তাদের প্রতি
দৃষ্টান্তরূপে ঘটেছিল, এবং আমাদেরই চেতনার জন্য লিখিত হল।” আবার, রোমীয় ১৫.৪ পদে
এমন কথা বলা হয়েছে, “কারণ পূর্বে যা যা লিখিত
হয়েছিল, সে সকল আমাদের শিক্ষার জন্য লিখিত হয়েছিল, যেন শাস্ত্রমূলক ধৈর্য ও সান্ত্বনা
দ্বারা আমরা প্রত্যাশা প্রাপ্ত হই।”
ইব্রীয় ১১ অধ্যায়ে,
যে সমস্ত নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা সবাই আমাদের কাছে খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ। কিন্তু
বিশ্বাস জীবনে অনুসরণের প্রশ্নে তাদের মধ্যে সবথেকে গুরুত্ত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হল “অব্রাহাম”। কারণ, পুরতন নিয়ম বা নতুন নিয়মের
পাতায় পাতায় আমরা অব্রাহামের কথা পেয়ে থাকি। আমরা রোমীয় ৪ অধ্যায়, গালাতীয় ৩ অধ্যায়,
যাকোব ২ অধ্যায়, বা ইব্রীয় ১১ অধ্যায় পাঠ করার পর এই কথায় উপনীত হতে বাধ্য হই যে,
“অব্রাহাম একজন ঈশ্বর
বিশ্বাসী ছিলেন”। তাকে ঈশ্বর-বিশ্বাসের
নায়ক বললেও বেশি কিছু বলা হয় না। বিশ্বাসের নায়ক হওয়া সত্ত্বেও অব্রাহাম কিছু ভুল
করেছিলেন; আমরা অব্রাহামের জীবনের বিভিন্ন ভুল থেকে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা
গ্রহণ করব।
আদিপুস্তকের মোট ৫০
টি অধ্যায়ের মধ্যে ১৩ টি অধ্যায়ে অব্রাহামের কথা লিপিবদ্ধ হয়েছে। আমরা আদিপুস্তকের
পাশাপাশি বাইবেলের অন্যান্য পুস্তক থেকে অব্রাহামের জীবনকে দেখব এবং তাঁর জীবন থেকে
আমাদের জীবনের প্রয়োজনীয় শিক্ষাসমূহকে গ্রহণ করব।
আদিপুস্তক ১১.১০-২৬
পদে উল্লেখিত শেমের বংশ-বৃত্তান্তের মধ্যে ২৪-২৬ পদে তেরহের কথা উল্লেখ করা হলেও, ২৭-৩২
পদে পুনরায় তেরহের বংশ-বৃত্তান্ত দেওয়া হয়েছে। কারণ, অব্রাহামের পিতা হিসাবে তার
বিশেষ গুরুত্ত্ব আছে ও অব্রাহামের বৃত্তান্ত তাঁর পিতা থেকে শুরু হয়েছে। তেরহ ৩ পুত্র
সন্তানের জন্ম দেন- অব্রাম, নাহোর ও হারণ। এখানেই অব্রাহামের কথা প্রথম বলা হয়েছে। অবশ্য,
প্রথমে তাঁর নাম “অব্রাম” ছিল, পরে ঈশ্বর তাঁর
নাম “অব্রাহাম” রেখেছিলেন (১৭.৫)।
পুত্রদের নাম উল্লেখ করতে গিয়ে, যদিও অব্রামের নাম সবার আগে বলা হয়েছে, অব্রাম কিন্তু
তেরহের জ্যেষ্ঠ্য পুত্র ছিলেন না। কারণ, ২৬ পদে বলা হয়েছিল যে তেরহ ৭০
বৎসর বয়সে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু হারণে তেরহ যখন ২০৫ বৎসরে মারা
যান (১১.৩২), তখন অব্রামের বয়স ছিল ৭৫ (১২.৪)। অর্থাৎ, তেরহের ১৩০ বৎসর বয়সে (২০৫-৭৫)
অব্রাহামের জন্ম হয়েছিল। তাই, ধরা যেতে পারে যে, তেরহের ৩ পুত্রের মধ্যে অব্রাহাম
কনিষ্ট ছিলেন।
২৮ পদে, তেরহের পুত্রদের
জন্ম-স্থানের কথা বলা হয়েছে- কলদীয় দেশের ঊর। এই স্থান পারস্য উপসাগরের দিকে বাবিলের
দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। পূর্বে ধারণা ছিল যে, ঊর হল এক আদি নগর যেখানে সভ্যতার
কোন আলো ছিল না। তাই, অব্রাহামকে মাটির দেওয়ালের তৈরী ঘরে বসবাসকারী অশিক্ষিত ও অজ্ঞ
ব্যক্তি হিসাবে অনেকে মনে করতেন। কিন্তু প্রত্নতাত্তিক বিভিন্ন আবিষ্কারের ফলে এই ভুল
ধারণা সংশোধিত হয়েছে। ঊরের বিভিন্ন ধংসাবশেষ থেকে জানতে পারা গেছে যে, এই শহর ছিল
মহান ঐশ্বর্য ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ। এখানে একটি গ্রন্থাগার ও বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এই শহর
ছিল চন্দ্র দেবতার উপাসক। যিহোশূয় ২৪.২
পদ থেকে পরিষ্কার যে অব্রাহাম ও তাঁর পূর্বপুরুষেরা অন্য দেবগণের উপাসক ছিলেন। এই সত্য
তাদের স্ত্রীদের নাম থেকে স্পষ্ট- “সারী” চন্দ্র দেবতার এক সখীর
নাম, এবং“মিল্কা" চন্দ্র দেবতার কণ্যার
নাম। অবশ্য, অব্রাহাম ও তার পূর্বপুরুষেরা যে কেবল চন্দ্র দেবতারই উপাসক ছিল, তা ঠিক
নয়। চন্দ্র দেবতার পাশাপাশি তারা অন্য অনেক দেব-দেবীর পূজা করত, সেই সমস্ত দেব-দেবীর
প্রতীমা তাদের কাছে ছিল। অর্থাৎ, অব্রাহামের পরিবার সাধারণ হিন্দু পরিবারের ন্যায়
বহু-ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিল।
৩ পুত্রের মধ্যে হারণের
প্রথমে মৃত্যু হয়; তার সন্তানদের মধ্যে লোট, মিল্কা ও যিস্কার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
২৯-৩০ পদে, তেরহের অন্য দুই পুত্র - নাহোর ও অব্রামের বিবাহের কথা বলা হয়েছে। নাহোর
তার ভাই হারণের কণ্যা (ভাইঝি) মিল্কাকে বিয়ে করেছিল; এবং অব্রাম সারীকে বিয়ে করেছিল।
আবার, ২০:১২ পদে অব্রাহাম সারী সম্বন্ধে এমন কথা বলেছেন, “সে আমার ভগিনি, ইহাও
সত্য বটে; কেননা সে আমার পিতৃকণ্যা, কিন্তু মাতৃকণ্যা নহে, পরে আমার স্ত্রী হল।” অর্থাৎ, তেরহ একাধিক
বিবাহ করেছিল ও সারী ছিল অব্রাহামের সৎমায়ের মেয়ে (Half-sister)। অব্রাহাম তাঁর পিতা
তেরহকে একাধিক বিবাহ করতে দেখেছিলেন, তাই সারী যখন হাগারকে বিবাহ করতে বলেছিলেন (১৬.৩),
তখন অব্রাহামের কাছে সেই কথা অস্বাভাবিক লাগেনি।
৩১ ও ৩২ পদে, আমরা অব্রাম
ও তাঁর স্ত্রী সারী এবং লোটকে নিয়ে তেরহকে কনান দেশে যাবার জন্য ঊর থেকে যাত্রা শুরু
করতে দেখি। এই যাত্রা অবশ্য তাদের গন্তব্য স্থান কনানে নিয়ে যেতে পারেনি। ঊর থেকে
কনানের মাঝামাঝি হারণে এই যাত্রা থেমে যায়, কারণ তেরহ এখানে বসতি স্থাপন করেন ও পরে
২০৫ বৎসর বয়সে এখানে মারা যান।
এখানে আমরা স্বাভাবিকভাবে
যে প্রশ্ন করতে পারি, তা হল, তেরহ কেন ঊর ছেড়ে কনানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিলেন?
প্রেরিত ৭.২-৪ পদে পবিত্র আত্মায় পূর্ণ
হয়ে স্তিফান মহাসভার সামনে যে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তাতে বলা হয়েছে যে, হারণে বসতি
স্থাপন করার আগে অব্রাহাম যখন মিসপতামিয়া বা কলদীয় দেশে বাস করতেন, তখনই প্রতাপের
ঈশ্বরের কাছ থেকে আহ্বান ও প্রতীজ্ঞা লাভ করেছিলেন। প্রতাপের ঈশ্বর কীভাবে অব্রামকে
ঊরে দেখা দিয়েছিলেন, তা যদিও আমাদের জানা নেই। তবে এ কথা স্পষ্ট যে অব্রাহামকে কনানে
নিয়ে যাবার জন্য স্বয়ং ঈশ্বরই প্রথম উদ্যোগ (initiative) গ্রহণ করেছিলেন। মানুষের
ইতিহাসে এই কথা সবার জন্য সত্য। আমরা মনে করতে পারি যে, আমরা ঈশ্বরকে খুঁজে চলেছি,
কিন্তু বাস্তবে ঈশ্বরকে খুঁজবার এই ইচ্ছা স্বয়ং ঈশ্বরই আমাদের দিয়ে থাকেন। নদী তীরে
এসে লঙ্গরের দড়ি ধরে টানার সঙ্গে একে তুলনা করা যেতে পারে। আমাদের মনে হতে পারে যে,
আমরা স্থলভূমিকে আমাদের কাছে টেনে নিয়ে আসছি; কিন্তু বাস্তবে আমরাই স্থলভূমির দিকে
এগিয়ে চলেছি। প্রতাপের ঈশ্বর চন্দ্র দেবতা ও অন্যান্য দেব-দেবীর উপাসক অব্রামকে প্রতীমায়
পরিপূর্ণ দেশে দর্শণ দিয়েছিলেন। এই দর্শনের দ্বারা ঈশ্বর তাঁকে যে আদেশ ও প্রতীজ্ঞার
কথা বলেছিলেন, তা আমরা আগামী রবিবার দেখব।
ঈশ্বর অব্রাহামকে আহ্বান
করেছিলেন, কারণ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল একজন মানুষ ও তাঁর স্ত্রীর দ্বারা পরিবার গঠন করা,
এবং সেই পরিবার থেকে এক জাতিকে গঠন করা। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, কারণ, সেই জাতির মাধ্যমে
ঈশ্বর পৃথিবীর অন্য সব জাতিকে আশীর্বাদ করবেন (১২.১-৩; ১৮.১৮)। কিন্তু এই উদ্দেশ্য
সফল করতে ঈশ্বর যাঁকে মনোনীত করেছিলেন, মানুষের বুদ্ধি ও চিন্তায় তা ছিল অবোধের কাজ।
কারণ, সারী ছিলেন বন্ধ্যা (১১.৩০)। কিন্তু আমাদের পথ ও ঈশ্বরের পথ এক নয় (যিশাইয়
৫৫:৮-৯)। ১করিন্থিয় ১.২৭-২৯ পদে এমন কথা বলা হয়েছে, “ঈশ্বর জগতের দুর্বল
বিষয় সকল মনোনীত করিলেন, যেন শক্তিমন্ত বিষয় সকলকে লজ্জা দেন ... যেন কোন মর্ত্ত্য
ঈশ্বরের সাক্ষাতে শ্লাঘা না করে”।
ধরা যেতে পারে, ঊরে
ঈশ্বরের দর্শণ পাবার পর অব্রাম সেই দর্শণের কথা তাঁর পরিবারের অন্যান্যদের বলেছিলেন।
তেরহ যদিও সরাসরি ঈশ্বরের কাছ থেকে সেই আহ্বাণ পাননি, কিন্তু পুত্র অব্রামের কাছে সেই
আহ্বানের কথা শুনে তিনিও ঊর ত্যাগ করেন, যদিও কনান পর্যন্ত যেতে তিনি ব্যর্থ হন। অব্রামের
প্রতি ঈশ্বরের আহ্বাণের কথা শুনে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, হৃদয়কে পরিতৃপ্ত করতে
পারে এমন জীবন ঊর দিতে সক্ষম নয়। তাই, তিনি অব্রামের সঙ্গে যাত্রা শুরু করেছিলেন,
কিন্তু শেষ করতে পারেননি। আজকের দিনেও এমন অনেক মানুষ আমাদের চোখে পড়ে, যারা তাদের
যাত্রা ঊর থেকে শুরু করলেও কনান পর্যন্ত নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছে, হারণেই থেমে গেছে,
সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। অনেকেই জগতকে ত্যাগ করে মণ্ডলীতে যোগদান করেছে। তারা
তাদের জীবনে এক নতুন ধর্ম পেয়েছে, তারা নৈতিক জীবন যাপন করেন ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান
পালন করেন। তারা খুবই ধর্মপরায়ণ কিন্তু তাদের নতুন জন্ম হয়নি- কনানে তাদের প্রবেশ
ঘটেনি- খ্রীষ্টেতে নতুন জীবনের স্বাদ তারা লাভ করতে পারেনি। পিতা তেরহের জন্য অব্রাহামের
জীবনের অনেকগুলি বৎসর হারণে নষ্ট হয়েছিল। তখনও অব্রাহাম ঈশ্বরে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করতে
পারেননি। আপনি এখন কোথায় আছেন? ঊরে? হারণে? কনানে?


0 Comments