Recent Post

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

ঈশ্বর কীভাবে তাঁর চরম পরিকল্পনা বা আদেশ বলবৎ করেন? সৃষ্টিকর্ম কী?

ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টিকর্মে এবং সদয় তত্ত্বাবধানে তাঁর চরম পরিকল্পনাগুলি বলবৎ করেন । 

ঈশ্বর তাঁর বাক্যের পরাক্রমে’, ছয় দিনে এবং সবকিছুকে অতি উত্তম করে, অস্তিত্বহীন অবস্থা থেকে তাঁর সকল সৃষ্টিকর্ম সম্পন্ন করলেন। 

১. আদিতে ঈশ্বর আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি করলেন (আদি. ১ : ১)। 

২. বিশ্বাসেই আমরা বুঝতে পারি যে, এই বিশ্বভুবন ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা সৃষ্ট হয়েছিল, কোনাে প্রত্যক্ষ বস্তু থেকে এইসব দৃশ্য-বস্তুর উৎপত্তি হয়নি (ইব্রীয় ১১ : ৩)।

 ৩. ঈশ্বর তাঁর সমস্ত সৃষ্ট বস্তুর উপর দৃষ্টিপাত করলেন, দেখলেন, সকলই উত্তম। রাত্রি ও দিনের অবসান হল। সমাপ্ত হল ষষ্ঠ দিবস (আদি ১ : ৩১)। 


আমাদের পূর্ববর্তী পাঠে আমরা ঈশ্বরের চরম পরিকল্পনা সম্পর্কে আলােকপাত করেছি। আমরা দেখেছি, ঈশ্বর সবকিছুর পরিকল্পনা রচনা করেছেন। কোনাে কিছু করার পূর্বে আমরাও কীভাবে পরিকল্পনা করি, তা দেখিয়ে আমরা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি। ৬.১ চিত্ররূপে আমরা দেখেছি, মুকুল তার বাড়ির জন্য একটা পরিকল্পনা রচনা করছে। আগে সেখানে কোনাে বাড়ি না-থাকলেও তার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ হয়ে গেল। এখন, ৭.১ চিত্ররূপে আমরা ব্যাখ্যা করব, মুকুল কীভাবে তার পরিকল্পনা রচনা করল। 

ঈশ্বর সৃষ্টিকর্মে তার চরম পরিকল্পনাগুলি বলবৎ করেন

প্রথম চিত্রে, আমরা দেখছি, মুকুল তার পরিকল্পনা বা নকশা অনুযায়ী বাড়ি তৈরি করছে, একে বলা হয়, সৃষ্টিকর্ম। দ্বিতীয় চিত্রে আমরা দেখছি, বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হবার পর সে তার দেখাশােনা করছে। একে বলা হয়, তত্ত্বাবধানের কর্ম। এই পাঠের অবশিষ্ট অংশে এবং পরবর্তী পাঠে আমরা সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলােচনা করব। এর পর, পরবর্তী পাঠগুলিতে আমরা তত্ত্বাবধানের কর্ম নিয়ে আলােচনা করব। 


‘প্রশ্নোত্তর’ যখন বলে, “অস্তিত্বহীন অবস্থা থেকে ঈশ্বর তাঁর বাক্যের পরাক্রমে ছয় দিনে তার সকল সৃষ্টিকর্ম সম্পন্ন করেলন”, তখন খুবই বিস্ময়কর মনে হয়। ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্ম এবং মানুষের বাড়ি তৈরির কাজ একই ধরনের। আমরা অবশ্যই এভাবে ব্যাখ্যা করব না। কারণ এর মধ্যে দুটি বড় ধরনের পার্থক্য আছে। 

( ১ ) মানুষ যখন কোনকিছু গঠন করে – বা “তৈরি" করে" - তার হাতের কাছে যে-উপাদান পাওয়া যায়, তা-ই ব্যবহার করে। সে কাঠ, ইট, সিমেন্ট ইত্যাদি ব্যবহার করে। কিন্তু ঈশ্বর যখন জগৎ সৃষ্টি করেছিলেন, তিনি অস্তিত্বশীল কোন উপাদানই ব্যবহার করেননি। কারণ “কোন প্রত্যক্ষ বস্তু থেকে এই সব দৃশ্য-বস্তুর উৎপত্তি হয়নি” (ইব্রীয় ১১ : ৩) । কারণ ঈশ্বরের “বাক্য উচ্চারণে সৃষ্ট হল এ বিশ্বভুবন, তাঁরই নির্দেশে হল তাঁর স্থিতি” (গীত. ৩৩ : ৯)। একেই আমরা বলি, “শূন্য থেকে সৃষ্টি”। 

( ২ ) আর একটি বিষয়, আমরা দেখি যে, গঠনকর্ম – বা তৈরির কাজ – একটি সময়সাপেক্ষ প্রণালী। অথচ, প্রভুর কাছে "একটি দিন সহস্র বছরের মতাে এবং সহস্র বছর একটি দিনের সমান” (২ পিতর ৩ : ৮)। তাই, বাইবেলের কর্তৃত্বের আলােকে, আমরা শুধুই বিশ্বাস করি, ঈশ্বর ছয় দিনে সমগ্র বিশ্বভুবন নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমান বিজ্ঞানের বিভিন্ন থিয়ােরিতে আমরা অবশ্যই দোদুল্যমান হব না। 


অত্যন্ত শক্তিশালী আধুনিক বৈজ্ঞানিক থিয়ােরি ‘প্রশ্নোত্তরের' শিক্ষার সম্পূর্ণ বিরুদ্ধ। বিবর্তন মতবাদ অনুসারে, যে-জগৎকে (বা বিশ্বকে) আজ আমরা দেখতে পাই, তা অত্যন্ত ধীর এবং দৃঢ় অগ্রগতির ফল। যেসমস্ত লােক বিশ্বাস করে যে, ঈশ্বর মাত্র ছ'দিনের সংক্ষিপ্ত সময়ে জগৎসৃষ্টি করেছিলেন, তাদের সাধারণত মূর্খ বলে মনে করা হয়। কিন্তু বাইবেল আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, “বিশ্বাসেই আমরা বুঝতে পারি যে, এই বিশ্বভুবন ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা সৃষ্ট হয়েছিল” (ইব্রীয় ১১ : ৩)। যদি আমরা বােঝার চেষ্টা করি, জগৎকে আমরা আজ যে-অবস্থায় দেখছি, তা কীভাবে এল, স্বাভাবিক যে, আমাদের মানবিক জ্ঞান অনুসারে, আমরা অবিশ্বাসী বিজ্ঞানের পথ অনুসরণ করব। কোন গাছকে আমরা একদিনে বড়াে হয়ে উঠতে দেখি না। মানুষকে আমরা যুবাবস্থায় সৃষ্টি হতে দেখি না (হবা ও আদম যেমন হয়েছিল)। আর তাই, গাছ বেড়ে উঠতে সময় নেয় এবং মানুষ ক্রমে ক্রমে যৌবনে উপস্থিত হয় বলে, এই ধরনের ঘটনা অকস্মাৎ ঘটতে পারে, এমন কথা কল্পনা করা আমাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়ে। কিন্তু যখন আমরা এইভাবে যুক্তি দেখাই, তখন আমরা আসলে যা করি : আমরা ভুল চিন্তা করি যে, সৃষ্টিকর্মে ঈশ্বর সীমাবদ্ধতার অধীন ছিলেন, যা আমরা নিজেরা অভিজ্ঞতা লাভ করি। কিন্তু এইভাবে চিন্তা করার কোন সঙ্গত কারণ নেই। যদি আমরা আরও নিখুঁতভাবে (অর্থাৎ বাইবেলসম্মতভাবে) চিন্তা করি, আমরা বুঝতে পারব যে, সময় এমন বস্তু নয়, যা ঈশ্বর যখন সৃষ্টি কর্ম শুরু করেছিলেন, “তখনই সেখানে" উপস্থিত ছিল। সময়ের কোন স্বাধীন অস্তিত্ব নেই। একমাত্র ঈশ্বরই নিজে, সৃষ্ট না হয়েও তিনি বিরাজমান। এবং সময়ও সৃষ্ট বস্তু। ঈশ্বর যখন সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছিলেন, সময় “সেখানে” উপস্থিত ছিল না। 

মহাশূন্য এবং সময় 

একটি প্রশ্নের মাধ্যমে আমরা বিষয়টিকে সবচেয়ে ভালােভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি : মহাশূন্য সৃষ্টি করার জন্য ঈশ্বর কতটা সময় "ব্যয় করেছিলেন?” এর উত্তর, ঈশ্বর মহাশূন্য সৃষ্টি করার জন্য সময় ব্যয় করেননি। তিনি শূন্য থেকে মহাশূন্য নির্মাণ করেছিলেন। আবার, আমরা যখন জিজ্ঞাসা করি, আমাদের সময় পদ্ধতি (অন্যভাবে বলা যায়, সৌর পদ্ধতি, কারণ এর দ্বারাই আমাদের সময়কে পরিমাপ করা হয়) নির্মাণের ক্ষেত্রে ঈশ্বর কতটা সময় ব্যয় করেছিলেন, এর একমাত্র উত্তর হতে পারে : আদৌ কোন সময় নয়। অন্য সব কিছুর মতােই, তিনি কোনকিছু-না থেকেই সময়কে সৃষ্টি করেছিলেন। তাই, আমরা শুধুই বিশ্বাস (ইব্রীয় ১১ : ৩) করি যে, ঈশ্বর বাক্যোচ্চারণ করলেন এবং তা সম্পন্ন হল; তিনি আদেশ করলেন এবং তা দৃঢ় হয়ে স্থিতিলাভ করল। আসুন, আমরা বিশ্বাস করি, সৃষ্টির এই বিস্ময়কর সৃষ্টকর্ম এমন স্বর্গীয় পরাক্রমে সম্পন্ন হয়েছিল যে, এজন্য সময় লেগেছিল মাত্র ছ’দিন। আদিপুস্তকের প্রথম অধ্যায় পাঠ করলে আমরা এই তথ্য পাই। ঈশ্বর "অল্পকালব্যাপী" কর্ম করেছেন – এ কথাকে আমরা অন্যভাবে বলতে পারি, তিনি ঈশ্বর এবং তাঁর সমস্ত পবিত্র ইচ্ছা তিনি পূরণ করতে পারেন। এখানে পছন্দের মধ্যে কোনাে আলাে-আঁধারি ভাব নেই বা সেই পছন্দ ছিল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন । সমস্ত অবিশ্বাসী বিজ্ঞানের প্রাথমিক চিন্তা : “সৃষ্টির আদি থেকে যেমন ছিল, এখনও সবকিছুই তেমনই চলবে” (২ পিতর ৩ : ৪)। অন্যভাবে বলা যেতে পারে, অবিশ্বাসী বিজ্ঞানী পর্যবেক্ষণ করেন, বিষয়গুলি এখন কেমনভাবে ঘটছে, এবং তার পর তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, কেবল এইভাবেই বিষয়গুলি ঘটে থাকে। কিন্তু খ্রীস্টীয় বিশ্বাসের মৌল চিন্তা হল, এখন যা ঘটছে না, বাইবেল সেই বিষয়েই আমাদের সত্যকে জানায়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা খ্রীস্টের অলৌকিক-কর্ম সম্পর্কে চিন্তা করি। কানা নগরের বিবাহ বাড়িতে যীশু তার স্বর্গীয় পরাক্রমের তাৎক্ষণিক ক্রিয়ায় দ্রাক্ষারস তৈরি করেন এবং — সবচেয়ে উত্তম দ্রাক্ষারস প্রস্তুত করেছিলেন। একশাে বছরের স্বাভাবিক পদ্ধতিতে যে দ্রাক্ষারস তৈরি করা যেতে পারে, এর গুণগত মান ঠিক একই রকম। আমরা বিশ্বাস করি, ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মে এ তাঁর প্রকৃত পরাক্রমের একটি নিদর্শন। প্রভু যদি তাৎক্ষনিকভাবে দ্রাক্ষারস সৃষ্টি করতে পারেন, তা হলে কেন আমরা বিশ্বাস করব না যে, তিনি ছয়দিনে বিশ্বসৃষ্টি করেছেন? 

উত্তম সৃষ্টি 

সবশেষে, আমরা লক্ষ করি, ‘প্রশ্নোত্তর' শিক্ষা দেয় যে, ঈশ্বরের সৃষ্টির সবকিছুই ছিল “উত্তম"। বাইবেলে আমরা পাঠ করি (আদি ১:১২ , ১৮ , ২৫ ইত্যাদি), “সে সকল উত্তম।” এই উক্তির অর্থ, এটা শুধু একটা সহজ সরল প্রমাণ নয়, এর গুরুত্বও অসীম। এর অর্থ, বস্তুর প্রকৃতির মধ্যে সহজাতভাবে মন্দতা নেই, মন্দতা আছে মানুষের নৈতিক বিকৃতির মধ্যে, যারা সেগুলির অপব্যবহার করে। উদাহরণস্বরূপ দ্রাক্ষারসের কথা ধরা যাক। দ্রাক্ষারসকে সৃষ্টি করা হয়েছে। যীশু নিজে দ্রাক্ষারস সৃষ্টি করেছিলেন। তাই বাইবেল একে ‘উত্তম’ বলে ঘােষণা করে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, যেমন "মানুষের চিত্ত বিনােদনের জন্য দ্রাক্ষারস”, তেমন “মুখশ্রীর উজ্জ্বলতার জন্য তৈল এবং দেহকে সুস্থ ও চিত্ত সবল করার জন্য ... খাদ্য দ্রব্য” (গীত. ১০৪ : ১৫)। মত্ততাকে বাইবেলে পাাপ বলা হয়েছে । কিন্তু বাইবেলে বলা হয়নি যে, এই পাপের জন্য দ্রাক্ষারসকে দোষারােপ করতে হবে। না, এর কারণ সম্পূর্ণভাবে মানুষের পাপ প্রকৃতি। পাপীর মুখবিবরে যা প্রবেশ করে, তা তাকে কলুষিত করতে পারে না। অন্তর থেকে যা নির্গত হয়, তা-ই কলুষিত করে (মার্ক ৭:১৫)। “ঈশ্বর যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, সবই উত্তম এবং কৃতজ্ঞচিত্তে গ্রহণ করলে কোন কিছুই অখাদ্য নয়” (১ তীমথি ৪ : ৪)। এই শিক্ষা চূড়ান্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মণ্ডলীর ইতিহাসে সব সময়েই, স্বয়ং মানুষের বাইরের কোন কারণকে পাপের কারণ হিসাবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা গেছে। তাই, আর কোন পছন্দ না থাকায়, জগতের বস্তুগত জিনিসের উপর দোষারােপ করা হয়েছে। কোন বস্তুগত জিনিসের যখন ক্রমাগত অপব্যবহার করা হয়, যে-মানুষ সেই বস্তু ব্যবহার করে, তাকে দোষারােপ না-করে আমরা সেই বস্তুকে দোষারােপ করতে প্রলােভিত হই। তখন এ কথা বলা সহজ যে, “এটা কোরাে না, ওটা খেয়াে না, সেটা ছুঁয়াে না, ... মানুষের গড়া মতবাদ ও নির্দেশ থেকেই এই সমস্ত বিধিনিষেধের সৃষ্টি” (কলসীয় ২ : ২১-২২)। এই মৌলিক ভ্রান্তিকে (বস্তুগত বিষয়েই মন্দতার অবস্থান) যদি আমরা একবার স্বীকার করে নিই, তা হলে এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর বন্দিত্বের সূচনা হবে। একের পর এক বিষয় “নিষিদ্ধ" হয়ে ওঠে এবং অন্তরে আরও বেশি অনিশ্চয়তা প্রবেশ করে। তা হলে, “বাইরে থেকে কোন কিছু ভিতরে গিয়ে মানুষকে অশুচি করতে পারে না” (মার্ক ৭:১৫)। ঐশ্বরিক সৃষ্টির এই বিস্ময়কর মতবাদই আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।।

Post a Comment

0 Comments