Recent Post

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

ঈশ্বরের গৌরবকীর্তন ও তাকে উপভােগের পথে চালিত করার জন্য ঈশ্বর আমাদের কোন্ নিয়মবিধি প্রদান করেছেন ?

       পুরাতন ও নতুন নিয়মের অন্তর্গত যে ঈশ্বরের বাক্য তা - ই একমাত্র নিয়মবিধি যা আমাদের ঈশ্বরের গৌরবকীর্তন ও তাকে উপভােগের পথে আমাদের চালিত করে । 

১ , সমগ্র শাস্ত্রই ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং শিক্ষাদানের উপযােগী । এর দ্বারা সব দোষ দেখানাে  যায় , তেমনই ভুল সংশােধন করে মানুষকে ধর্মপথে পরিচালিত করা যায় ( ২ তীমথি ৩:১৬ ) । 
২ , যারা এই গ্রন্থের ভাবােক্তির বাণী শােনে , তাদের প্রত্যেককে আমি এই সাক্ষ্য দিচ্ছি : যদি কেউ এর সঙ্গে আর কিছু যােগ করে , তা হলে ঈশ্বর এই গ্রন্থে উল্লিখিত সমস্ত আঘাতে তাকে জর্জরিত করবেন । যদি কেউ এই ভাবােক্তি গ্রন্থ থেকে কিছু হরণ করে , তা হলে ঈশ্বর এই গ্রন্থে বর্ণিত জীবনবৃক্ষ ও পবিত্র নগরীর অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করবেন ( প্রকাশিত বাক্য ২২ : ১৮ - ১৯ ) । 

             আশ্চর্যজনক মনে হলেও , যীশু একবার বলেছিলেন যে , ঈশ্বর জ্ঞানী ও বুদ্ধিমানদের কাছে এই রহস্যের বিষয় গােপন রেখে শিশুর মতাে সরল মানুষের কাছে প্রকাশ করেছেন ( লুক ১০:২১ ) । অন্যভাবে বলা যেতে পারে , সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ও শিক্ষাপ্রাপ্ত কিছু মানুষের প্রকৃত জ্ঞানের অভাব আছে । এবং কিছু সহজ সরল মানুষ যারা সুশিক্ষিত নয় , তারা প্রকৃত জ্ঞানের অধিকারী । এর কারণ , মানুষ স্বয়ং সত্যের জ্ঞানের কাছে উপনীত হতে পারে না । মানুষ নিজের চেষ্টায় (তার নিজের মনের সাহায্য - না - পাওয়া শক্তির দ্বারা ) যত বেশি শেখে , সে ততই বেশি অজানার মুখােমুখি দাঁড়ায় । বেলুন যেমন ফোলালে সবদিকেই বিস্তৃতিলাভ করে , মানুষের শিক্ষাও ঠিক তেমনই তাকে ঈশ্বরের বিস্ময়কর কর্মকাণ্ডের অনন্ত রহস্যের মুখােমুখি এনে দাঁড় করায় । উদাহরণস্বরূপ , নক্ষত্রপুঞ্জের রহস্য অধ্যয়ন করার জন্য মানুষ নতুন নতুন এবং আরও শক্তিশালী দূরবিন আবিষ্কার করেছে । কিন্তু তার ফল কী হয়েছে ? তার ফল হয়েছে এই অধ্যয়ন করার মতাে , তারা এখন কয়েক লক্ষ নতুন নক্ষত্রের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে । এই কারণেই বৈজ্ঞানিক থিয়ােরি অবিরত পরিবর্তিত হচ্ছে । কারণ মানুষ যত বেশি আবিষ্কার করবে , তারা এ কথাও আবিষ্কার করবে যে , আরও কত কিছু রয়েছে , যা তারা জানে না । এইভাবে , মানুষ সবকিছু জানতে পারে না বলে , শেষে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে এবং উপলব্ধি করে যে , তারা প্রকৃতপক্ষে সুনিশ্চিতভাবে কোনােকিছুই জানতে পারে না।

দুই ধরনের প্রকাশ 

         এখন এর কারণ : ঈশ্বর মানুষকে এমনভাবে সৃষ্টি করেননি যে , সে নিজের শক্তিতে সবকিছু ( অথবা , যে - কোন বিষয় ) জানবে । একমাত্র ঈশ্বরই সবকিছু জানেন । এবং তাই , প্রারম্ভ থেকে , একমাত্র ঈশ্বরই মানুষকে সবকিছুর সুনিশ্চিত জ্ঞান দিতে পারেন । শুরুতেই , মানুষের কাছে এই জ্ঞান এসেছিল দু’ভাবে : ( ১ ) ( প্রথম , আমরা যাকে বলি প্রাকৃতিক প্রকাশ , ঈশ্বর সেইভাবে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন । গীতিকার বলেন , আকাশমণ্ডল ঈশ্বরের গৌরব বর্ণনা করে , মহাকাশ তাঁর হস্তের কার্য ঘােষণা করে ( গীতসংহিতা ১৯ : ১ ) । “ তাঁর [ঈশ্বরের ] অদৃশ্য গুণ , অর্থাৎ তাঁর অনন্ত পরাক্রম ও ঈশরত্ব , জগতের সৃষ্টিকাল থেকে তাঁর বিবিধ কার্যে বােধগম্য হয়ে দৃষ্ট হচ্ছে ” ( রােমীয় ১:২০ ) । ( ২ ) দ্বিতীয় , আমরা যাকে বলি বিশেষ প্রকাশ , ঈশ্বর তার মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন । এমনকী ঈশ্বর স্বর্গোদ্যানে আদমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন । তার কাজের সঙ্গে আদম লাভ করেছিল ঈশ্বরের বাক্য । আদম , তার প্রকৃতি অধ্যয়নের দ্বারা , অনেক কিছু জানতে পেরেছিল । কিন্তু সে সবকিছু জানতে পারেনি । উদাহরণস্বরূপ , যা তখনও ঘটেনি , সে তা জানতে পারেনি । একটা গাছ থেকে ফল পেড়ে খাবার মতাে এত "সরল ” বিষয় সম্পর্কে সুনিশ্চিত হবার জন্য , ‘ ঐশ্বরিক বাক্যের আলােকে ” “ প্রাকৃতিক তথ্যগুলি " ব্যাখ্যা করা তার পক্ষে প্রয়ােজনীয় ছিল । 
 
          আদম যখন ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করলেন , ঈশ্বরের বাক্যকে তিনি প্রত্যাখ্যান করল । তিনি এমন ভাব করলেন , যেন কোনটি সঠিক , ঈশ্বরের তাঁকে জানানাের কোনাে প্রয়ােজন নেই । বরং , সত্যকে আবিষ্কার করার জন্য তিনি তথাকথিত “ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ' ( অর্থাৎ , “ পরীক্ষার দ্বারা সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার পদ্ধতি ) অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নিলেন । তখন থেকে আজও পর্যন্ত , আদম এবং তার সমস্ত উত্তরপুরুষ ( যারা যীশু খ্রীস্টের মাধ্যমে পরিত্রাণ লাভ করেছিল , তারা ছাড়া ) অন্ধকারে বিভ্রান্ত হয়েছে । এর কারণ এই নয় যে , ঈশ্বরের প্রকাশের মধ্যে কোন "অন্ধকার" ছিল । ঈশ্বরসৃষ্ট সবকিছুতেই ঈশ্বরের "আলাে ” উজ্জ্বলভাবে বিকীর্ণ হচ্ছে । সেইজন্য যদি আদি মানুষ ( নিস্পাপ আদম ) ঈশ্বরের বাক্যের আলাে ব্যাতিরেকে যদি প্রকৃতির আলাে বুঝতে না পারে , তাহলে এটা বুঝতে না পারা আমাদের কাছে কতখানি সত্য ! এই কারণে মানুষ কেমন করে পাপ থেকে উদ্ধার পাবে তা একমাত্র বাইবেলে প্রকাশিত হয়েছে । মানুষের অজুহাত না - দেখানাের পক্ষে প্রকৃতিতে ঈশ্বরের যে প্রকাশ , তা - ই যথেষ্ট । প্রকৃতি তাদের দেখিয়েছে প্রকৃত ঈশ্বরের মহিমা দেখিয়েছে যেন তারা তাঁর আরাধনা ও সেবা করতে পারে । কিন্তু একমাত্র বাইবেলেই মানুষ শিখতে পারে , তারা কী বিশ্বাস করবে ( পাপ থেকে মুক্ত হবার জন্য ) এবং কী করবে ( আর একবার ঈশ্বরের সেবা করার জন্য ) ।

 ‘অন্তর্গত' শব্দের অর্থ

 কিন্তু 'প্রশ্নোত্তর’ যখন বলে যে , “ পুরাতন ও নতুন নিয়মের অন্তর্গত ... ঈশ্বরের বাক্য" , তখন এর অর্থ কী ? এই শব্দগুলি থেকে আমাদের বুঝতে হবে যে , বাইবেলের মধ্যে যে - বাক্যগুলি আমরা পাই , আমরা তা পেয়েছি ঈশ্বরের কাছ থেকে । যাই হােক, স্বচ্ছভাবে এ বােঝার জন্য , যে ত্রুটিযুক্তভাবে এই শব্দটি ( অন্তর্গত ) গৃহীত হয়েছে , তা আমাদের বােঝা দরকার । 

             'প্রশ্নোত্তর’ রচিত হবার সময় থেকেই , প্রশ্নোত্তর যেভাবে ব্যবহার করেনি , চতুর মানুষেরা , এই একই শব্দ ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে । ( ১ ) প্রথমটিকে ( চিত্ররূপ ২.১ ) বলা হয় উদারপন্থা ( অথবা “ প্রাচীনতর আধুনিক মতবাদ") ( Liberalism ) । যারা এই মতবাদের ধারক , তারা বিশ্বাস করে যে , বাইবেলের কিছু অংশ ঈশ্বরের বাক্য (-) , কিন্তু অন্য অংশগুলি মানবিক শব্দ ( .... ) । তারা বিশ্বাস করে যে , কোন অংশটি সত্য এবং কোন অংশটি মিথ্যা , এ তারা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারে । ( ২ ) দ্বিতীয়টিকে         ( চিত্ররূপ ২.২ ) বলা হয় নব - গোঁড়ামি ( Neo - Orthodoxy) (অথবা, “ নব আধুনিকতাবাদ") । আজ বহু প্রােটেস্টান্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে এই দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায় । কখনও কখনও একে বলা হয় “ বারথিয়ানিজম "        ( প্রখ্যাত ঈশতত্ত্ববিদ কার্ল বার্থ - এর নামানুসারে ) । যারা এই দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাসী , তারা বলে থাকে যে , সমগ্র বাইবেলই ভ্রমপ্রবণ মানবিক শব্দ । কিন্তু তারা বলে থাকে , যখন মানুষ এই মানবিক শব্দগুলি ( ----- ) পাঠ করে , ঈশ্বর যে - কোনভাবেই হােক , এই শব্দগুলি ব্যবহার করেন যাতে শব্দগুলির মাধ্যমে তারা ইশ্বরের সত্য বাক্য ( - ) লাভ করে ( তাদের নিজেদের মনে ) । বাইবেলের যে - কোন অংশই একটা উপায়স্বরূপ হতে পারে , যার দ্বারা ঐশ্বরিক বাক্য মানুষের কাছে আসে , কিন্তু হতে পারে , বাইবেলের একটি অংশ একজন মানুষের সঙ্গে "কথা বলে", এবং অন্য অংশ অন্য একজনের সঙ্গে "কথা বলে"। ( ৩ ) তৃতীয়টি ( চিত্ররূপ ২.৩ ) সংস্কারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি ( Reformed ) । এটাই ঐতিহাসিক খ্রীস্টিয় বিশ্বাসের দৃষ্টিভঙ্গি । প্রশ্নোত্তরে এই দৃষ্টিভঙ্গিই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে । এই দৃষ্টিভঙ্গির ধারকরা বিশ্বাস করে যে , সমগ্র বাইবেল ( প্রত্যেকটি শব্দ ) ঐশ্বরিক সত্য । ঈশ্বর অনুপ্রাণিত নয় , এমন কোন অংশ এর মধ্যে নেই । এমনকী , কোন অবিশ্বাসীও যখন বাইবেল পাঠ করে , তখনও এর সমস্ত শব্দই ঐশ্বরিক । অন্য ভাষায় বলা যায় , বাইবেল ঈশ্বরের বাক্য ( - ) ।

তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য 

বাইবেল যদি ঈশ্বরের বাক্য হয় , তাঁর মহিমাকীর্তন করতে এবং তাঁকে চিরকালের জন্য উপভােগের পথে চালিত করার জন্য একমাত্র নিয়মবিধি হয় , তা হলে আরও তিনটি বিষয় বলা যেতে পারে । ( ১ ) প্রথম , আমরা বলতে পারি যে , বাইবেল অভ্রান্ত । এর অর্থ , বাইবেল যা কিছু বলে সবই সত্য । এর অর্থ নয় যে , এর প্রসঙ্গ থেকে সরিয়ে নিয়ে বাইবেলের প্রত্যেক মন্তব্যকেই আপনি সত্য বলে ধরে নিতে পারেন । উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে , গীতসংহিতা ৫৩ : ১ - এ বলা হয়েছে , " ... ঈশ্বর নেই ! " কিন্তু এটি মন্তব্যের একটি অংশমাত্র । সম্পূর্ণ পদটিতে বলা হয়েছে , “ মুর্খ মনে মনে বলে , ঈশ্বর নেই" । আমরা যখন সমগ্র বাইবেল পাঠ করি , এবং তার অর্থ উপলব্ধি করি , তখনই বলতে পারি যে , প্রত্যেকটি মন্তব্যই অভ্রান্ত । ২ ) দ্বিতীয় ক্ষেত্রে , আমরা বলতে পারি যে , বাইবেলের অর্থ স্বচ্ছ । শাস্ত্ৰবাক্য লিখিত হয়েছিল , যেন সাধারণ মানুষ সেগুলি হৃদয়ঙ্গম করতে পারে । এমনকী ঈশ্বর শিশুদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেছেন ( ইফিসীয় ৬:১-৩)। কিছু কিছু মণ্ডলী এ কথা অস্বীকার করে । তারা বলে থাকে , একমাত্র যাজক বা পণ্ডিতরাই বাইবেল বুঝতে পারেন । ( অবশ্য এ কথা সত্য যে , বাইবেলের মধ্যে এমন অনেক বিষয় রয়েছে , যা আমরা বুঝতে পারি না । এমনকী পণ্ডিতদেরও অনেক কিছু শেখার আছে ) । কিন্তু পবিত্র আত্মার সহায়তায় , সাধারণ মানুষের পরিত্রাণের জন্য যতটুকু জানা প্রয়ােজন , ঈশ্বর তাদের সেই পথে চালিত করতে পারেন এবং করে থাকেন । ( ৩ ) এবং সবশেষে , আমরা বলতে পারি যে , বাইবেলই যথেষ্ট ( আমাদের যা জানা প্রয়ােজন , তা জানার জন্য বাইবেলের সঙ্গে আর অন্য কিছু জানার প্রয়ােজন নেই ) । বহু ভ্রান্ত ধর্ম এ কথা অস্বীকার করে । রােমান ক্যাথলিক মণ্ডলী বলে বাইবেলের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যকে জানা দরকার । মরমনরা ( Mormmons ) বলে , বাইবেলের সঙ্গে ‘ বুক অভ মরমন' ( Book of Mormon ) ও প্রয়ােজন । আধুনিকপন্থীরা বলে , বাইবেলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের   " বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকেও" জানতে হবে । কিন্তু যীশু বলেছেন , বাইবেল নিজেই যথেষ্ট ( প্রকাশিত বাক্য ২২ : ১৮-২০ ) । যার বাইবেল আছে , বাইবেলই বলে , সে      " সবরকম সৎকাজের জন্য প্রস্তুত থাকে ” (২ তীমথি ৩ : ১৫-১৭ ) । সংস্কারপন্থী মণ্ডলীগুলির বিশ্বাসসূত্র , বিশ্বাস - স্বীকার এবং প্রশ্নোত্তর সম্পর্কে কী বলব ? আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে যে , মানুষের তৈরী এই সমস্ত মতবাদের অবস্থান বাইবেল থেকে অনেক নিচে । সেগুলিকে আমরা কোনভাবেই বাইবেলের সমান বলে মনে করতে পারি না । এগুলিকে আমরা বাইবেলের শিক্ষার সুবিধাজনক সারাংশরূপে ব্যবহার করব । কিন্তু আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে , শুধু “ প্রশ্নোত্তর" বিশ্বাস করে আমরা পরিতৃপ্ত হব না । আমাদের সর্বদা সুনিশ্চিতভাবে জানতে হবে যে , বাইবেলের দ্বারা আমরা প্রশ্নোত্তরের শিক্ষাকে প্রমাণ করি । শুধু তখনই আমাদের বিশ্বাস গ্রাহ্য ও নিরাপদ হবে।

Post a Comment

0 Comments