ঈশ্বর যখন মানুষ সৃষ্টি করলেন; তিনি মানুষের সঙ্গে জীবনের এক নিয়মে প্রবেশ করলেন, যেখানে থাকল সম্পূর্ণ বাধ্যতার শর্ত; মানুষকে বলা হল সদসদ্ জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল ভােজন করলে মানুষ মৃত্যুর অধীন হবে।
১. আদমের মতােই তারা শর্তভঙ্গ বা চুক্তিভঙ্গ করেছে (হেশেয় ৬ : ৭)। মােশি লিখে গেছেন: বিধান পালনের মাধ্যমে যে ধার্মিকতা অর্জন করতে চায়, সে বিধানের দ্বারাই বাঁচবে।
২. সৎ ও অসৎ জ্ঞানদায়ী যে বৃক্ষটি রয়েছে, তার ফল খেয়াে না। যেদিন সেই বৃক্ষের ফল তুমি খাবে, নিশ্চিত জেন, সেই দিনই হবে তােমার মৃত্যু (আদি ২ : ১৬-১৭)।
আগে আমরা শিখেছি, ঈশ্বর সমস্ত প্রাণী ও ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করেন। এখানে আমরা শিখব, জীবনের চুক্তির (কর্মের চুক্তি নামেও পরিচিত) দ্বারা ঈশ্বর কীভাবে – মানব ইতিহাসের শুরুতে মানুষের উপর তার শাসন কায়েম করেছিলেন। পরে আমরা দেখতে পাব, এক নতুন উৎকৃষ্টতর চুক্তির দ্বারা ঈশ্বর এখন মানব জাতির একটি অংশের উপর বিশেষ কর্তৃত্ব বজায় রেখেছেন। এই চুক্তির দ্বারা ঈশ্বর তার মনােনীতদের অনন্ত পরিত্রাণে নিয়ে এসেছেন (চিত্ররূপ ১০.১ এবং ১০.২ - এর সাহায্যে এই দুটি চুক্তির তুলনামূলক আলােচনা করুন)। এই পাঠে, মানুষ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করার পূর্বে, শুরুতে সমস্ত বিষয় যে-অবস্থায় ছিল, তা আমরা বিবেচনা করব।
চুক্তি কী?
পুরানাে প্ৰেজবিটারিয়ান প্রশ্নোত্তর অনুসারে: শিশুদের জন্য "চুক্তি হল দু’জন বা ততােধিক ব্যক্তির মধ্যে অঙ্গীকার।” এই উক্তির মধ্যে যথেষ্ট সত্যতা আছে। আমরা যে-চুক্তির কথা চিন্তা করছি, তা দুজন, কি ততােধিক মানুষের মধ্যে চুক্তি। কিন্তু মানুষের সঙ্গে ঈশ্বরের চুক্তির কথা চিন্তা করলে এই পুরাতন সংজ্ঞার্থ আদৌ গ্রহণযােগ্য নয়। কারণ মানুষের সঙ্গে ঈশ্বরের চুক্তিকে উপলব্ধি করতে হলে, সেখানে ঈশ্বর এবং মানুষের মধ্যে সমান অংশীদারত্ব – এই চিন্তাকে পুরােপুরি দূর করতে হবে। ঈশ্বর যখন মানুষের সঙ্গে চুক্তিতে প্রবেশ করেন, একে আমরা “পঞ্চাশ-পঞ্চাশ” অনুপাত, এ কথা বলব না। চুক্তির বিষয়বস্তু এবং শর্ত নির্ধারণ করার জন্য ঈশ্বর মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করেন না। ঈশ্বরের চুক্তিতে তারই
চরম সার্বভৌমত্ব প্রকাশ পায়। অন্য ভাষায় বলা যেতে পারে, তিনি একাই স্থির করেন যে, একটি চুক্তি স্থাপতি হবে। সেই চুক্তির শর্তাবলি তিনি একাই স্থির করেন বা তিনি একাই নিজের এবং মানুষের উপর আরােপ করেন। এই সত্যগুলি যদি আমরা দৃঢ়ভাবে মনে রাখি, তা হলে জীবনের বা কর্মের প্রথম চুক্তি সম্পর্কে আলােচনা করার সময় কোন বিপদ দেখা দিলে, তা আমরা পরিহার করতে পারব। বিপদটি হল – যা আমাদের সব সময়েই দৃঢ়ভাবে প্রতিরােধ করতে হবে – আমরা মানুষের সম্পর্কে চিন্তা করি যে, সে যেন ঈশ্বরের কাছ থেকে কিছু অর্জন করতে পারে। শাস্ত্র আমাদের সুস্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে, এই চিন্তাধারা ভুল। কারণ, এমন একজন মানুষের কথা আমাদের কল্পনা করতে হয়, যে কখনও পাপ করেনি – এমন একজন মানুষ, তার যা করা উচিত ছিল, তা-ই করেছে, তবু যীশু তখনও বলেন, সেই মানুষের কাছে ঈশ্বর কোন বিষয়েই ঋণী নন। “ঠিক সেই রকম তােমাদেরও যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা পালন করার পরও বল, “আমরা অযােগ্য দাস, আমরা শুধু আমাদের কর্তব্য করেছি” (লুক ১৭:১০)।অবনমন
১০.১ চিত্ররূপে আমরা মুকুল এবং তার কুকুরকে দেখতে পাচ্ছি। তার হাতে রয়েছে একটা হাড়। সে তার কুকুরকে হাড়টি দিতে উদ্যত হয়েছে। কিন্তু হাড়টি দেবার আগে, সে চাইল, তার আদেশ পালন করে কুকুরটি যেন তার সামনে বসে। এর দ্বারা মানুষের সঙ্গে ঈশ্বরের সাধিত চুক্তির তুলনা করা সম্ভব। এই দৃষ্টান্ত থেকে আমরা সুনিশ্চিতভাবে দেখতে পাচ্ছি, মুকুল এবং তার কুকুর কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছে না। মুকুল, একা মুকুলই এই হাড়টি তার কুকুরকে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একমাত্র মুকুলই স্থির করেছে, হাড়টি পেতে হলে “বাঘাকে কী” পালন করতে হবে। আমরা বলতে পারি না যে, “বাঘা" সেই হাড়টিকে অজর্নকরেছে। না, পুরস্কার না থাকলেও মুকুলের অনুগত হওয়াই তার কর্তব্য। “বাঘা” যে-কর্ম সম্পাদন করে, আমরা যদি তার কথা বলি, তাহলে আমরা একথা বলতে চাই না যে, তার সামান্য বাধ্যতামূলক কর্মের দ্বারা সে হাড়টির জন্য মূল্য দিয়েছে। একমাত্র মুকুলই শর্ত স্থির করেছে এবং তারই প্রেক্ষিতে সে তার কুকুরকে হাড়টি দিয়ে পুরস্কৃত করবে। তাই, আমরা যখন “কর্মের চুক্তির" কথা বলি, আমরা এ কথা বলতে চাই না যে, আদম যে-কোনাে কাজ করতে পারে, যা পরিবর্তে তাকে কিছু দেবার জন্য ঈশ্বরকে দায়বদ্ধ করতে পারে। আমরা শুধু বলতে চাই, ঈশ্বর চান বাধ্যতা, যে-শর্তের উপর নির্ভর করে পুরস্কার দান করা যেতে পারে। তা হলে, আমরা এই প্রথম চুক্তিকে বলি “জীবনের চুক্তি”, কারণ ঈশ্বর আদমকে জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন (মুকুল যেমন তার কুকুরকে হাড় দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল)। আমরা একে “কর্মের চুক্তি"ও বলে থাকি। কারণ আদমকে পুরস্কার দেবার আগে ঈশ্বর চেয়েছিলেন, আদম যেন তার অনুগত হয়।
(১) ঈশ্বরের কাজ করার জন্য প্রয়ােজনীয় সক্ষমতা দিয়েই আদমকে নির্মাণ করা হয়েছিল। “ঈশ্বর মানুষকে সৃজন করলেন সহজ ও সরল করে ...” (উপদেশক ৭:২৯)। তার পাপ করার দরকার ছিল না। এমনকী শয়তানও আদমকে পাপে লিপ্ত করতে পারেনি। প্রেরিতশিষ্য বলেন, “আদম নন, হবাই প্রতারিত হয়ে পাপে পতিত হয়েছিলেন” (১ তীমথি ২:১৪)। তিনি জানতেন, শয়তান তাকে এমন কিছু করতে প্রলােভিত করছে, যা তার করা উচিত নয়।
(২) অধিকন্তু, আদমকে অবাধ্যতা থেকে রক্ষা করার জন্য ঈশ্বর তার চারপাশে অনেক আবেষ্টনি দিয়ে রেখেছিলেন। “তুমি উদ্যানের যে-কোন ফল খেতে পার” (আদি ২:১৬)। এই সমস্ত বিষয় ছিল “উত্তম” (আদি ১ : ৩১) এবং ঈশ্বর স্বেচ্ছায় আদমকে সেগুলি দান করেছিলেন, তাই ঐশ্বরিক বাক্যের বিরুদ্ধারচরণ করার প্রয়ােজন তাঁর ছিল না।
(৩) এর পর, কোন কারণে আদম অবাধ্য হলে, ঈশ্বর যখন তাঁকে অবাধ্যতার ভয়াবহ মৃত্যুদণ্ডের কথা শােনালেন, তখন যে-কোন ধরনের অবাধ্যতাকে পরিহার করার যথেষ্ট শক্তিশালী কারণ ছিল। তাই, যদিও এটা সত্য যে, সকলেই আদমে পাপ করেছি এবং তাঁর প্রথম অপরাধে আমরাও তাঁর সঙ্গে অপরাধী হয়েছি, তবু এর মধ্যে কোন অন্যায় নেই।
প্রতিনিধিত্ব
১০.২ চিত্ররূপে আমরা মুকুল এবং তার বাবাকে দেখতে পাচ্ছি। সে জিজ্ঞাসা করছে, “বাবা, আমি কেন ভারতীয়?” এর উত্তর সহজবােধ্য। মুকুল একজন ভারতীয়, কারণ তার বাবা, মা ভারতীয়। তাদের বাবা-মা-র সুযােগ-সুবিধা (বা অসুবিধা) নিয়ে সন্তানরা জন্মগ্রহণ করেছে। কিন্তু মুকুল কি একে "অন্যায়" বলে অভিযােগ জানাতে পারে? অবশ্যই না। বরং, আমরা বলব, আমরা কৃতজ্ঞ (যে-কোনাে ভাবেই হােক, তার কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত)। সেই রকম, আমরা অবশ্যই বলব যে, ঈশ্বরের সামনে আদমের নিজস্ব মর্যাদায় আমরা সকলে, মানবজাতির সভ্য হিসাবে জন্মগ্রহণ করেছি। তার মধ্যে কোন অন্যায় ছিল না। আদম যদি জীবনের (বা কর্মের) চুক্তি পালন করতেন, তা হলে আমরাও লাভবান হতাম। এখন, আদম সেই চুক্তি ভঙ্গ করায় আমরাও তিক্ত পরিণতির যন্ত্রণাভােগ করেছি। আমরাও আদমে পাপ করায় এবং তাঁর সঙ্গে পতিত হওয়ায়, আমরা যদি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে দোষারােপ করি, তা হলে, এ আমাদের হৃদয়গত পাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
তা হলে, জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, আমাদের প্রথম পিতামাতাকে প্রলােভিত করার জন্য শয়তানকে কীভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল? ঈশ্বর যদি সত্যিসত্যিই তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকে এবং তাদের সকল কর্মকে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন, তা হলে এ-ও নিশ্চয় ঈশ্বরের মহান পরিকল্পনারই অঙ্গ। এবং যদি এ ঈশ্বরের মহান পরিকল্পনার অঙ্গ হয়ে থাকে, তা হলে কীভাবে আমরা বলতে পারি যে, আদম যখন ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করেছিলেন, তা ছিল একা আদমেরই দোষ? অন্যভাবে বলা যেতে পারে, আমাদের প্রথম পিতামাতাকে ঈশ্বর কীভাবে প্রলােভিত করতে পারেন, এবং তাঁরা পাপে পতিত হওয়ার জন্য কীভাবে আমরা তাঁদের (এবং আমাদের নিজেদের) উপর সমস্ত দোষ চাপাতে পারি? আমরা সুস্পষ্টভাবে বুঝতে চেষ্টা করি, স্বয়ং ঈশ্বর ছাড়া আর কেউ এই গভীর রহস্যকে অনুধাবন করতে পারে না। কোনাে মানুষই আজ পর্যন্ত এর ব্যাখ্যা করতে পারেনি এবং এই রকম প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে আমাদের শুধু একটি কাজই করার আছে। বাইবেলের মন্তব্যকে আমরা সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করব। বাইবেল আমাদের শুধু এই দুটি বিষয়ে শিক্ষা দেয়:
(১) ঈশ্বর তাঁর সমস্ত প্রাণী ও তাদের কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করেন, এবং (২) তবু, ঈশ্বর পাপের স্রষ্টা নন। পাপের স্রষ্টা না-হয়েও তিনি যেমন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তেমনই তিনি সবকিছু গােপনে রেখেছেন। আমরা শুধু জানতে পারি, এ এই রকমই। প্রেরিতশিষ্য বলেন, “তিনি নিজ সঙ্কল্প ও পরিকল্পনা অনুযায়ী সর্বকর্ম সাধন করেন” (ইফিসীয় ১:১১)। “প্রভু পরমেশ্বর সকল কর্মে দয়াবান, ন্যায়পরায়ণ সর্বক্ষেত্রে” (গীত ১৪৫ : ১৭)।
আদমের সত্যিই অস্তিত্ব ছিল
উপসংহারে আমরা লক্ষ করি, 'প্রশ্নোত্তর’ আদমের ঐতিহাসিক বাস্তবতা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। অন্যভাবে বলতে পারি, আদিপুস্তক ১-৩ অধ্যায়ের বিবরণ একটি বিশ্বস্ত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে; এই ঘটনা পৃথিবীতে সত্যিসত্যিই কোন এক সময়ে, কোন স্থানে ঘটেছিল। কিছু আধুনিক ঈশতত্ত্বের সুকৌশলী বিপদের জন্য বর্তমানে এর উপর গুরুত্ব আরােপ করা প্রয়ােজন। আদম ছিলেন আসলে একজন মানুষ এবং মানবজাতি সেই মানবে পাপ করেছে এবং তার প্রথম অপরাধে মানুষ পাপে পতিত হয়েছে। এই সমস্ত ঈশতত্ত্ব আধুনিক ঈশতাত্ত্বিকরা বার বার অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে। এই
সব আধুনিক ঈশতত্ত্ব, আদম সম্পর্কে যদি আদৌ কিছু আলােচনা করে, তবে বলে যে, আদম যেন শুধুই একটি প্রতীক ছিলেন। “আদম” একটি শব্দ, কোন ব্যক্তির নাম নয়; এর অর্থ, “পাপ ও পতনের প্রতি আমার নিজস্ব প্রবণতা।” মনে করা যাক, বহু পূর্বে লােকেরা উপলব্ধি করতে শুরু করল যে, তারা পাপী এবং দুর্দশাগ্রস্ত। মনে করা যাক, তারা এর পর এই তথ্যকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করল। তার পর সময় অতিক্রান্ত হলে, “স্বর্গোদ্যান” নামক উদ্যান ও “আদম” নামে এক মানুষের কাহিনী ক্রমে ক্রমে গড়ে উঠল। এই “কাহিনীকে" আমরা একটি “লােককথা" বলব। এ সত্যিসত্যিই ঘটেছিল, এই অর্থে তা সত্য হবে না। এটা "সত্য” হবে একমাত্র এই অর্থে যে, একটি মূল্যবান নৈতিক শিক্ষা আছে! আধুনিক ঈশতত্ত্বের এই শিক্ষাকে অত্যন্ত আকর্ষকরূপে উপস্থাপন করা যেতে পারে। এই ধরনের ভ্রান্তির শিক্ষকরা, এমনকী এ কথাও বলতে পারেন যে, তাঁরা “আদমের কাহিনীকে বিশ্বাস করেন"। এবং বিশ্বাস করেন বলে তারা বলে এই ঘটনার কিছু মূল্য আছে। তাঁরা বলতে চান না যে, এটি প্রকৃত ঘটনার একটি বিবরণী। কিন্তু আমাদের এ অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। কারণ বাইবেল বলে, “একটি মাত্র মানুষের অবাধ্যতার ফলে অনেক মানুষকেই পাপী বলে গণ্য করা হয়েছিল, তেমনই একটি মানুষের বাধ্যতার জন্য অনেককেই ধার্মিক প্রতিপন্ন করা হবে” (রােমীয় ৫:১৯) । বাইবেল আদমের অস্তিত্ব বিশ্বাস করে। তাঁর অস্তিত্বকে অস্বীকার আমাদের খ্রীস্টের পরিচয়কে (তিনি কে ছিলেন) অস্বীকার করার পথে নিয়ে যায়। অন্যভাবে বলতে পারি: আমরা যদি, আদম এবং জীবনের (কর্মের) চুক্তির অধীনে থেকে তিনি কী করেছিলেন, বাইবেল যা বলে, তা বিশ্বাস না-করি, বাইবেল যীশু সম্পর্কে এবং অনুগ্রহের চুক্তিতে তিনি আমাদের জন্য কী করেছিলেন, তার কোনােটিই বিশ্বাস করব না।






0 Comments