ঈশ্বর তাঁর নিজের সাদৃশ্যে’, জ্ঞান, ধার্মিকতায়, এবং পবিত্রতায়, সকল প্রাণীর উপর কর্তৃত্ব-ভার দিয়ে মানুষকে নর ও নারীরূপে সৃষ্টি করলেন।
১. ঈশ্বর আপনার প্রতিমূর্তিতে মানুষকে সৃষ্টি করলেন; ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতেই তাকে সৃষ্টি করলেন, পুরুষ ও স্ত্রী করে তাদের সৃষ্টি করলেন (আদি ১:২৭)।
২. তােমরা তােমাদের পুরাতন সত্তা ও তার কার্যকলাপ বর্জন করে নতুন সত্তা ধারণ করেছ। সেই সত্তা তার স্রষ্টার প্রতিমূর্তিতে নবায়িত এবং ঐশ্বরিক জ্ঞানে পূর্ণতা লাভ করে চলেছে (কল ৩:১০)। ঈশ্বরের সাদৃশ্যে ধার্মিকতায় শুচিশুদ্ধ নূতন সত্তা তােমরা ধারণ কর (ইফি ৪:২৪)।
৩. ঈশ্বর তাদের আশীর্বাদ করলেন; ঈশ্বর বললেন, তােমরা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হও, এবং পৃথিবী পরিপূর্ণ ও বশীভূত কর, আর সমুদ্রের মৎস্যগণের উপরে আকাশের পক্ষিগণের উপরে এবং ভূমিতে গমনশীল, যাবতীয় জীবজন্তুর উপরে কর্তৃত্ব কর (আদি. ১:২৮)।
আমাদের পূর্ববর্তী পাঠে আমরা দেখেছি, ঈশ্বর সকল বস্তু নির্মাণ করেছেন। এই পাঠে, আমরা মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে আলােচনা করব। মানুষ সম্পর্কে আমাদের এই বিশেষ আগ্রহের কারণ হল, শাস্ত্রবাক্য আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সমস্ত বস্তু 'সমন্বিত’ হবার জন্য বা মানুষের নেতৃত্বাধীনে তাদের "উদ্দেশ্য ও অর্থ” গড়ে তােলার জন্য নির্মিত হয়েছিল। একটি উপমা ব্যবহার করে বলা যায় যে, মানুষকে ছাড়া যদি সকল কিছু সৃষ্টি হত, তাহলে এটা কর্ণধারবিহীন (Captain) জাহাজের মতাে, অথবা সেনাপতিবিহীন বিশাল সেনাবাহিনীর সদৃশ। ঈশ্বরের সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে একমাত্র মানুষই ঈশ্বরের নিজস্ব সাদৃশ্যে নির্মিত হয়েছিল। একমাত্র মানুষের উদ্দেশেই ঈশ্বর এই কথাগুলি বলেছিলেন, “তােমরা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হও এবং পৃথিবী পরিপূর্ণ ও বশীভূত কর, আর সমুদ্রের মৎস্যগণের উপরে আকাশের পক্ষিগণের উপরে এবং ভূমিতে, গমনশীল যাবতীয় জীবজন্তুর উপরে কর্তৃত্ব কর” (আদি. ১ : ২৮)।
বিবর্তনবাদ কী?
কখনও কখনও বলা হয়, এমনকী খ্রীস্টবিশ্বাসীরাও বলে থাকেন যে, সমস্ত সৃষ্টির উপর মানুষের আধিপত্যকে বিবর্তনবাদের দ্বারা একসূত্রে বাঁধা যেতে পারে। এই কাজে অগ্রণী ব্যক্তিদের প্রায়ই আস্তিকতামূলক (ঈশ্বরে বিশ্বাস করে এমন ব্যক্তি) বিবর্তনবাদী বলা হয়। বিবর্তনবাদের শিক্ষায় তাঁরা বহুলাংশে সহমত হন; জগতে যে অগ্রগতি হয়ে চলেছে, সেই প্রণালীর বর্ণনা হিসাবে একে মেনে নেন। প্রথমে, উদ্ভূত হয়েছিল এককোষী প্রাণীর, এবং তার পর আরও অনেক জটিল প্রাণীর ইত্যাদি। কিন্তু তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, এই ঘটনার "অন্তরালে" আছেন ঈশ্বর। উন্নয়নের বিভিন্ন স্তরকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন। উদাহরণস্বরূপ, আস্তিকতামূলক বিবর্তনবাদীরা এমনও বিশ্বাস করতে পারেন যে, মানবদেহ এসেছে বানর থেকে। কিন্তু তাঁরা বলেন যে, ঈশ্বর একটি বিশেষ কিছু সৃষ্টি করেছেন, যেমন মানুষের আত্মা বা প্রাণ। এবং যখন তা ঘটল, মানুষ প্রকৃত অর্থে ঐশ্বরিক প্রতিমূর্তির বাহক হিসাবে অস্তিত্ব লাভ করল। এই আস্তিকতামূলক বিবর্তনবাদ (ঈশ্বরের সৃষ্টি প্রণালীরূপে বিবর্তনবাদ?) সম্পর্কে আমরা কী চিন্তা করব?
( ১ ) একটি কারণে, এই মতবাদ আদিপুস্তক ২ : ৭ অনুযায়ী নয়, যেখানে বলা হয়েছে, “প্রভু পরমেশ্বর মাটি দিয়ে মানুষ গড়লেন এবং তার নাসিকায় আপন প্রশ্বাসে প্রাণবায়ু সঞ্চারিত করলেন। তখন মানুষ পরিণত হল এক সজীব সত্তায়।” যে-প্রাণীদের ঈশ্বর ইতােমধ্যেই জীবন দান করেছেন, তাদের বড়াে জোর “মৃত্তিকার ধূলি” বলা যেতে পারে। ঈশ্বর যদি জীবিত কোন প্রাণীর সঙ্গে আরও কিছুর সংযােগ ঘটিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করে থাকেন, তাহলে তাকে “প্রাণবায়ু” দেবার ঈশ্বরের কী প্রয়ােজন ছিল? আদিপুস্তক ২ : ৭ পদ সুস্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে, মানুষ বিবর্তিত হয়নি।
( ২ ) আর একটি বিষয়ে, বাইবেলের কোথাও বলা হয়নি যে, মানুষের দেহকে “পশুসুলভ” বিষয় বলে মনে করতে হবে। আমরা আত্মাকে এক ধরনের “স্বর্গদূতসম” বলে মনে করে থাকি। এ কথা সত্য যে, মানুষ দ্বি-বিভাজিত (অর্থাৎ দুই প্রকৃতির অধিকারী) — তার মাংসিক শরীর আছে, আর এক অবস্তুগত আত্মা বা প্রাণ। স্বয়ং আমাদের প্রভু বলেছিলেন, “যারা শুধু দেহকে ধ্বংস করতে পারে, আত্মাকে বিনাশ করতে পারে না, তাদের ভয় কোরাে না, কিন্তু যিনি নরকে দেহ ও আত্মা উভয়েরই বিনাশ সাধন করতে পারেন, তাকেই সম্ভ্রম কোরাে” (মথি ১০:২৮)। কিন্তু যখন বলা হয় যে, মানবের দেহ নিচু স্তরের জীবন থেকে বিবর্তিত হয়েছে এবং একমাত্র ঈশ্বর কর্তৃক সৃষ্ট, সেখানে আসলে এই চিন্তাই (চেতন বা অবচেতনভাবে) প্রবল হয়ে থাকে যে, যেভাবেই হােক, মানুষের আত্মা দেহের চেয়ে উৎকৃষ্ট এবং একটি অন্যটির চেয়ে আরও বেশি মৌলিক চেতনায় ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে। কিন্তু বাইবেল একথা শিক্ষা দেয় না। এই কারণেই খ্রীস্টীয় বিশ্বাস – মিথ্যা ধর্মের সঙ্গে এর বৈসাদৃশ্য আছে – দেহের পুনরুত্থানের প্রত্যাশা ধারণ করে থাকে, মৃত্যুর পর শুধু আত্মার অস্তিত্বের জন্য নয়! ঈশ্বর পূর্ণাঙ্গ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এবং ওই পূর্ণাঙ্গ মানুষই হয় প্রভু যীশুর দ্বারা পরিত্রাণ লাভ করবে, নয়তাে শেষদিনে ঈশ্বর কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হবে।
মানুষ : ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট
কিন্তু মানুষ ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট – এ কথার অর্থ কী? আমাদের বিশ্বাস, মানুষ প্রাথমিকভাবে যে-ভাবে সৃষ্ট হয়েছিল, তা যদি আমরা চিন্তা করি, সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে ভালাে উপলব্ধি :
( ১ ) 'প্রশ্নোত্তর’ বলে যে, ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন আপন প্রতিমূর্তির জ্ঞানে। এর অর্থ, আদম যখন নিস্পাপ ছিলেন, জগতে তাঁর নিজের সম্পর্কে ঈশ্বরের প্রকাশ উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। আদম যখন “প্রত্যেক গৃহপালিত পশু, পাখি ও বন্যপশুর নামকরণ করলেন" (আদি ২:২০), শুধু “নামগুলি চিন্তা করার চেয়ে" তিনি আরও বেশি কিছু করলেন। যেগুলির নামকরণ করা হয়েছিল, নাম সেগুলির যথার্থ বর্ণনা। আদম যখন তাঁর স্ত্রীর নাম দিলেন হবা (এর অর্থ “জীবনদাত্রী"), তিনি তাঁর সঠিক নামই দিলেন, কারণ "তিনিই হলেন জীবিত সকল মানুষের মাতা” (আদি ৩:২০)। আদম যখন প্রাণীদেরও পর্যবেক্ষণ করলেন এবং তাদের নাম দিলেন, তিনি নিজেকে দেখালেন যে, তিনি বস্তুর আসল প্রকৃতিকে ব্যক্ত করতে সমর্থ। অন্যভাবে বলা যায়, আদম (তিনি তখনও নিস্পাপ ছিলেন), এক অর্থে, ছিলেন ভাববাদী। কারণ ভাববাদী তিনিই যিনি ঐশ্বরিক সত্যকে দেখতে পান (ভাববাদীকে প্রায়ই "দর্শক" বলা হয়।) এবং অন্যদের মঙ্গলের জন্য তা প্রকাশ করেন।( ২ ) 'প্রশ্নোত্তর’ আরও বলে যে, ঈশ্বর পবিত্রতায়, আপন প্রতিমূর্তিতে মানুষকে সৃষ্টি করলেন। এর অর্থ, আদম যখন নিস্পাপ ছিলেন, তিনি ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করেছিলেন। এই উৎসর্গীকরণের কাজ পুরাতন নিয়মে যত্নের সঙ্গে গড়ে তােলা হয়েছে মােশির মাধ্যমে, ঈশ্বর তা উপাসনা পদ্ধতির দ্বারা প্রকাশ করেছেন। পুরাতন নিয়মে মহায়াজক, সমাগম তাঁবু, বিভিন্ন উপহার এবং বিভিন্ন ঐশ্বরিক পর্বও ছিল। আর সে কারণে পবিত্রতার প্রাথমিক ধারণা ছিল খুবই স্পষ্ট। পবিত্রতার অর্থ, “প্রভুর উদ্দেশে পৃথকীকৃত হওয়া।” আদমের ক্ষেত্রে, এই ধরনের কোনাে পর্ব বা বলিদানের বিষয় ছিল না। কিন্তু তার ক্ষেত্রে ছিল হৃদয়ের আনুগত্য। তিনি পবিত্র ছিলেন, কারণ তিনি প্রভুতে তাঁর চরম আনন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন। ভীত না-হয়ে (পাপে পতিত হবার পূর্বে), আদম ঈশ্বরের সান্নিধ্যে শান্তি অনুভব করেছিলেন। ইচ্ছুক বাসনা অনুসারে, সর্ববিষয়ে প্রভুর উদ্দেশে তিনি ছিলেন পৃথককৃত। এই অর্থে, তিনি যথার্থই একজন পুরােহিত ছিলেন।
( ৩ ) 'প্রশ্নোত্তর' সবশেষে বলে যে, ঈশ্বর ধার্মিকতায়, তাঁর আপন প্রতিমূর্তিতে মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন। ধার্মিকতা ঈশ্বরের প্রতি বাধ্যতার আর একটি নাম। ঈশ্বর তাঁকে যা করতে দিয়েছেন, যিনি তা করেন, সেটাই ধার্মিকতা। তাই এ কথা বলা যথার্থ হবে যে, আদম পাপে পতিত হবার পূর্বে, একজন রাজা ছিলেন। রাজা তাকেই বলি, যিনি শাসন করেন। আদম সমগ্র জগৎকে শাসন করতেন, যা ঈশ্বর তাঁর কর্তৃত্বের অধীনে রেখেছিলেন। তিনি প্রভুর ইচ্ছা জানতেন (ভাববাদীরূপে) এবং কেবল তাঁরই সেবা করতে ইচ্ছুক ছিলেন (পুরােহিতরূপে)। সৃষ্টির রাজা হিসাবে তিনি ধার্মিকতার কর্ম করতে সক্ষম ছিলেন। এইভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তির উপস্থিতির কথা বলা সঠিক নয়। বরং সম্পূর্ণ মানুষকেই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি বলাই সঠিক। মানুষের মধ্যে, অথবা মানুষের কোনও অংশের (আত্মা) মধ্যে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি যে কোনও বিষয় ছিল, এমন নয়। কিন্তু মানুষ নিজে ভাববাদীর ন্যায় চিন্তা করে, পুরােহিতের ন্যায় অনুভব করে, এবং রাজার ন্যায় কাজ করে – নিজেই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি ছিল।
একটি ভিত্তিমূলক মতবাদ
‘প্রশ্নোত্তরের’ অবশিষ্ট অংশগুলি অধ্যয়ন করার সময় আমাদের এই বিষয়টি স্মরণ রাখতে হবে। কারণ ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি মানুষের সৃষ্টিকে যদি আমরা যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে পারি, তা হলে খ্রীস্টীয় বিশ্বাসের আরও অনেক মতবাদকে বুঝতে পারব। কতকগুলি উদাহরণ সংক্ষেপে উল্লেখ করা যাক।
( ১ ) আমরা যদি প্রথমে ঐশ্বরিক প্রতিমূর্তিতে মানুষের সৃষ্টির অর্থ উপলব্ধি করতে পারি, তবেই মানুষের সম্পূর্ণ পতনের মতবাদকে (Man's total depravity) বােঝা যেতে পারে। আদমের প্রথম পাপে সম্পূর্ণ মানুষই পতিত হয়েছিল এবং সম্পূর্ণ মানুষই এখন সর্বক্ষেত্রে কলুষিত।
(২ ) আবার, এই শিক্ষার আলােকেই, আমরা খ্রীস্টের উদ্ধারণকর্মকে সবচেয়ে ভালােভাবে বুঝতে পারি। পুরাতন নিয়ম পরিত্রাতার প্রতিশ্রুতিকে উৎঘাটন করেছে। বাইবেলের ইতিহাসের ভাববাদী, পুরােহিত এবং রাজাদের প্রতিনিধিরূপে তিনি ঈশ্বরকর্তৃক পৃথিবীতে প্রেরিত হবেন। যীশুকে, তার প্রজাদের উদ্ধার করার জন্য নিখুঁত ভাববাদী, পুরােহিত ও রাজা হতে হবে। এই পাঠে আমরা যা শিখেছি, তা যদি দৃঢ়ভাবে স্মরণে রাখি, তা হলে, কেন এ রকম হয়েছিল, আমরা ভালােভাবে বুঝতে পারব।
( ৩ ) এই পাঠটি দৃঢ়ভাবে স্মরণে রাখতে পারলে আমরা আর একটি মতবাদ ভালােভাবে বুঝতে পারব। তাই এই মতবাদটি হল, খ্রীস্টের প্রতি পাপীদের মন পরিবর্তন। আমরা দেখব, প্রকৃত মন-পরিবর্তনের ভিতর কেন জ্ঞান,অনুভূতি এবং ইচ্ছা জড়িয়ে থাকে।
( ৪ ) সবশেষে, এই শিক্ষার আলােকে আমরা প্রকৃত মণ্ডলীর চিহ্নগুলি বুঝতে পারি। খ্রীস্টের প্রকৃত মণ্ডলী কোনাে প্রাসাদ নয়, এ একটি কর্মশীল অঙ্গ – মানুষের সম্মিলিত রূপ — যারা প্রভুরই। অন্যভাবে বলা যেতে পারে, যারা প্রকৃত জ্ঞান, ধার্মিকতা এবং পবিত্রতায় পরিবর্তিত হয়েছে, মণ্ডলী তাদের একটি সঙ্ঘ। এবং আমরা দেখতে পাব, এই কারণেই প্রকৃত মণ্ডলীর চিহ্ন হবে ঈশ্বরের বাক্যের বিশ্বস্ত প্রচার, সংস্কারের সঠিক প্রয়ােগ এবং মাণ্ডলিক শৃঙ্খলার বিশ্বস্ত অনুশীলন। এই সমস্ত বিষয়ে আমরা ভাববাদী, পুরােহিত এবং রাজারূপে খ্রীস্টের মহিমময় পূর্ণতাকে দেখতে পাই। এবং এর দ্বারা আমরা আরও দেখতে পাব, তাঁর প্রজারা এই সমস্ত বিষয়ের অংশীদার হয়ে উঠছে।





0 Comments