Recent Post

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

ঈশ্বরের চরম পরিকল্পনা কী ?

ঈশ্বরের চরম পরিকল্পনা হল তাঁর ইচ্ছার পরামর্শ অনুসারে তাঁর অনন্ত উদ্দেশ্য, যার দ্বারা, তাঁর নিজস্ব গৌরবের জন্য যা কিছু ঘটে, সবই পূর্বেই নির্ধারণ করেছেন। 

১. তিনি ... জানতেন সৃষ্টির পূর্বেই আমাদের ভালােবেসে, আমাদের মনােনীত করেছিলেন, তিনি নিজ সঙ্কল্প ও পরিকল্পনা অনুযায়ী সর্বকর্ম সাধন করেন, তাঁরই সঙ্কল্প অনুযায়ী আমরা পূর্বেই মনােনীত হয়েছি ... (ইফিসীয় ১:৪ ,১১)। 


বাইবেল বলে, ঈশ্বর “নিজ সঙ্কল্প ও পরিকল্পনা অনুযায়ী সর্বকর্ম সাধন করেন” (ইফিসীয় ১:১১)। অন্য ভাষায় বলা যায়, আমরা জগতে যা কিছু ঘটতে দেখছি, তা আকস্মিক বা দুর্ঘটনাক্রমে ঘটছে না। বিনা কারণে কোন কিছু ঘটে না। সবকিছুরই অন্তরালে একটি কারণ আছে। এবং সবকিছুর চরম কারণ হল, তার পশ্চাতে আছে ঈশ্বরের মহান পরিকল্পনা। শাস্ত্রবাক্যে বলা হয়েছে, “সর্ববস্তু  তাঁরই সৃষ্ট, তাঁরই মাধ্যমে এবং তাঁরই জন্য এই সৃষ্টির অস্তিত্ব। সকল মহিমা ও পরাক্রম যুগে যুগে তাঁরই"(রােমীয় ১১:৩৬ )। যা ঘটে, তার সবকিছুর পশ্চাতে আছে ঈশ্বরের পরিকল্পনা, কখনও কখনও আমরা সে-কথা উপলব্ধি করতে পারি না। কিন্তু বাইবেল বলে, প্রভু ঘােষণা করেন, “আমি শেষের বিষয় আদি অবধি জ্ঞাত করি, ..... আমার মন্ত্রণা স্থির থাকিবে, আমি আপনার সমস্ত মনােরথ সিদ্ধ করিব" (যিশাইয় ৪৬:১০)। মানুষের ক্ষেত্রে, ইয়ােব বলছেন, “তার আয়ুষ্কাল নির্দিষ্ট, তার জীবনের মাসগুলির সংখ্যা তােমার জানা, তুমি তার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছ, সে অতিক্রম করতে পারে না সেই সীমা" (১৪ : ৫)। “সদাপ্রভু সকলই স্ব স্ব উদ্দেশ্যে করিয়াছেন, এমনকী দুষ্টকেও দুর্দশা দিনের নিমিত্ত করিয়াছেন” (হিতােপদেশ ১৬ : ৪)। 

এক ত্রুটিযুক্ত সাদৃশ্য 

এই সত্যকে ব্যাখ্যা করার জন্য, ঈশ্বরের পরিকল্পনার সঙ্গে একটা মানবিক সমান্তরাল চিত্র অঙ্কন করি (চিত্ররূপ ৬.১)। 


এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের বন্ধু মুকুল তার বাড়ির জন্য নকশা তৈরি করছে। এমনকী ভিত্তিস্থাপনের আগে, কীভাবে সেই কাজ হবে তাও নির্ধারণ করে নিয়েছে। বাড়ি তৈরি করার যখন আসল সময় আসবে, এই কাজের সঙ্গে জড়িত কর্মীদের এই নকশা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। সব কিছুই এই "পরিকল্পনা" মাফিক চলবে। ঈশ্বরের মহান পরিকল্পনার সঙ্গে এ একটি দুর্বল মানবিক তুলনামাত্র, কিন্তু এ এক প্রকৃত সমান্তরালকে ব্যাখ্যা করে। মুকুল যেমন তার বাড়ির জন্য সবকিছু পরিকল্পনা করে, তেমনই জগতে যা কিছু ঘটে, তা ঘটে ঈশ্বরের পরিকল্পনা অনুসারে। যা কিছু ঘটে, তিনি পূর্ব থেকেই তার সবকিছু নির্ধারণ করে রেখেছেন। 

এ কথা বললেও, আমাদের কতকগুলি বিষয় উল্লেখ করতে হবে। আমরা দেখতে পাব, ঈশ্বরের এবং মানুষের পরিকল্পনার মধ্যে পার্থক্য আছে। 

( ১ ) এর মধ্যে একটি, ঈশ্বরের পরিকল্পনা অনন্তকালীন। অন্যভাবে বলা যেতে পারে, যদি আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয়, ঈশ্বর কখন তাঁর এই পরিকল্পনা রচনা করলেন? তা হলে তার উত্তর হবে এই রকম : ঈশ্বরের এই পরিকল্পনা সব সময়েই ছিল! তাঁর এই পরিকল্পনা অনন্তকালব্যাপী! মানবিক পরিকল্পনার সঙ্গে এর পার্থক্য আছে। প্রথম, একটা সময় থাকে, যখন আমাদের কাছে তৈরি-করা পরিকল্পনা থাকে না। এর পর, সবচেয়ে ভালাে একটা পরিকল্পনা রচনার কাজে আমরা হাত দিই। শেষে, আমরা একটা উপযুক্ত পরিকল্পনা রচনা করি। কিন্তু ঈশ্বরের ক্ষেত্রে ঠিক এ রকম নয়। কারণ “প্রভু পরমেশ্বরের পরিকল্পনা চিরস্থায়ী, সার্থক তাঁর সংকল্প যুগে যুগে" (গীতসংহিতা ৩৩:১১)। আমাদের মতো, ঈশ্বর প্রতিদিনের পরিকল্পনা রচনা করেন না। তাঁর পরিকল্পনা তিনি পরিবর্তনও করেন না। তিনি অসীম, অনন্ত, অপরিবর্তনীয়। তাই তাঁর উদ্দেশ্য -- তাঁর পরিকল্পনা – সর্বদা তাঁর মনে ছিল, এবং কখনই পরিবর্তিত হয়নি এবং কোনদিনই তার পরিবর্তন ঘটবে না। এইজন্যই প্রশ্নোত্তর বলে, “ঈশ্বরের অনন্ত উদ্দেশ্য” “তার ইচ্ছার পরামর্শ অনুসারে"। পরিকল্পনা রচনা করার সময় আমরা সাধারণত অন্যদের সঙ্গে আলােচনা করি। আমাদের চেয়ে যাদের জ্ঞানবুদ্ধি বেশি, আমরা তাদের উপদেশ পেতে চাই। কিন্তু ঈশ্বরের এর প্রয়ােজন নেই। তিনি ইতিমধ্যেই সবকিছু জানেন। ঈশ্বরের চেয়ে আর কারও বেশি প্রজ্ঞা নেই। তিনি আগে থেকেই দেখেননি, এমন কিছুই নেই। তাই, অন্যদের পরামর্শ অনুসারে ঈশ্বর তাঁর পরিকল্পনা রচনা করেননি। তাঁর পবিত্র ইচ্ছার সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিকল্পনা রচনার জন্য তিনি শুধু নিজের সঙ্গেই আলােচনা করেছিলেন। “আহা! কী বিপুল তাঁর ধনের বাহুল্য, অগাধ তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, অসীম তাঁর বিচারপদ্ধতি, অনধিগম্য তাঁর কর্মধারা। কে জানে প্রভুর মন? কে পারে তাঁকে মন্ত্রণা দিতে?” (রােমীয় ১১:৩৩-৩৪) 

( ২ ) ঈশ্বরের এবং মানুষের পরিকল্পনার আর একটি পার্থক্য হল, ঈশ্বরের পরিকল্পনা চরম। অর্থাৎ ঈশ্বরের পরিকল্পনার বহির্ভূত কিছুই ঘটে না। মানুষ যখন একটি ঘরের জন্য পরিকল্পনা রচনা করে, ঘটনাধারার উপর (সেই পরিকল্পনার দ্বারা) তার একটা নিয়ন্ত্রণ কাজ করে। এই পরিকল্পনার মধ্যে সমস্ত বিশদ তথ্য থাকে না, যেমন সেই ঘর তৈরি করতে কতগুলাে পেরেক ব্যবহার করা হবে। ঘরটি তৈরি করতে কতদিন সময় লাগবে, তাও নির্দিষ্ট করা থাকে না। কিন্তু ঈশ্বরের পরিকল্পনায় সবকিছুই চরমভাবে নির্ধারণ করা থাকে। এমনকী, এই পরিকল্পনায় দু'ধরনের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়, জগতের মানুষ যাকে প্রায়ই ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রণ-বহির্ভূত বলে মনে করে থাকে। 

( ক ) এর মধ্যে আছে, আমরা যাকে বলি "আকস্মিক ঘটনা" বা “দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা"। মানুষ যখন পাশা বা তাস খেলে, তারা কল্পনা করে, কেমনভাবে বিষয়গুলি ঘটবে তা কেউ জানে না। তারা মনে করে, তাদের জেতার একটা সুযােগ আছে। কিন্তু বাইবেল বলে, “পাশার দান নিজের পক্ষে হয়তাে ফেলা যায়, কিন্তু প্রভুই সবকিছুর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেন” (হিতােপদেশ ১৬ : ৩৩)। রাজাবলি পুস্তকে (২ রাজাবলি ২২) আমরা রাজা আহবের কাহিনী পাঠ করি, যিনি প্রভুর সতর্কবাণী সত্ত্বেও যুদ্ধে যাবার সুযােগ করে নিয়েছিলেন । আমরা আরও এক সিরীয় সেনার কথা পড়ি (৩৪ পদ) । যে কোন বিশেষ লক্ষ্যের দিকে তির নিক্ষেপ না-করে লক্ষ্যহীনভাবে আকাশে নিক্ষেপ করেছিল। কিন্তু সেই তিরই রাজাকে হত্যা করেছিল। ঈশ্বর কর্তৃক সবই নির্ধারিত হয়ে আছে। ঈশ্বরের পরিকল্পনায় “দুর্ঘটনা” বলে কোন শব্দ নেই। এমন কোন ঘটনাই নেই ঈশ্বরকে বিস্মিত করতে বা তার পরিকল্পনাকে ওলটপালট করে দিতে পারে। 

( খ ) কিন্তু মানুষের “স্বাধীন ইচ্ছা” সম্পর্কে কী বলব? আমাদের কি বিশ্বাস করতে হবে যে, মানুষ ভালাে, মন্দ যা-ই পছন্দ করুক, সেগুলি কি ঈশ্বরের পূর্বনির্ধারিত? হ্যা, শাস্ত্রবাক্য আমাদের সে-কথাই শিক্ষা দেয়। কারণ বাইবেল বলে, বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী যা-ই হােক, প্রত্যেক মানুষ যা সিদ্ধান্ত করে, তা সর্ব অনন্ত ঈশ্বর কর্তৃক ইতােমধ্যেই পরিকল্পিত হয়ে আছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রভু যীশুর হত্যাকারীদের সম্পর্কে বাইবেল কী বলে, স্মরণ করুন : “ঈশ্বরের নিজস্ব ইচ্ছা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী সেই যীশু আপনাদের হাতে সমর্পিত হয়েছিলেন, আর আপনারাই বিধর্মীদের দিয়ে তাকে ক্রুশে বিদ্ধ করে হত্যা করিয়েছিলেন (প্রেরিত. ২:২৩)। তাই, দুষ্কৃতীরা ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরণ করলেও, সে-কাজ তারা ঈশ্বরের পরিকল্পনা অনুযায়ীই করেছিল। তারা মনে করতে পারে না, তারা ঈশ্বরের পরিকল্পনাকে বানচাল করছে, কিন্তু আসলে তারা ঐশ্বরিক পরিকল্পনাকে পূর্ণ করছে। অবিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে যদি এ সত্য হয়, তাহলে বিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে কত সত্য! কারণ “আমরা তাঁরই সৃষ্টি, খ্রীস্ট যীশুর সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে সৎকর্ম করার জন্য সৃষ্ট। এইরকম সদাচরণের জন্যই ঈশ্বর আমাদের প্রস্তুত করেছেন” (ইফিসীয় ২:১০)। এমনকী মানুষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে পছন্দটি করতে পারে – খ্রীস্টকে বিশ্বাস করার পছন্দ — তা ঈশ্বরের পূর্বনির্ধারিত। পৌল যখন লুস্রায় প্রচার করেছিলেন, “যত লােক অনন্তজীবনের জন্য নিরূপিত হয়েছিল" তারা বিশ্বাস করল (প্রেরিত ১৩:৪৮)। তাই আমরা আবার একথা বলি : কোনােকিছুই ঈশ্বরের পরিকল্পনা-বহির্ভূত নয়। তার পরিকল্পনাই চরম। সবকিছু তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটে। 

( ৩ ) কোন কারণে ঈশ্বর এই নিখুঁত এবং সর্বব্যাপক পরিকল্পনা রচনা করলেন? প্রশ্নোত্তর বলে, “তার নিজস্ব গৌরবের জন্য!" এর অর্থ এই নয় যে, এর দ্বারা ঈশ্বর আগের চেয়ে নিজেকে আরও বেশি গৌরবান্বিত করে তােলেন। (মনে রাখবেন, ঈশ্বরের পূর্বে বা পরে কেউ নেই।) এর সরল উত্তর হল, ঈশ্বর যা করেন, তা ব্যাখ্যা করার জন্য আমাদের কোন কারণ দেখান না। ঈশ্বর আলফা এবং ওমেগা, আরম্ভ এবং শেষ, যাঁর থেকে, যার দ্বারা এবং যার জন্য সমস্ত কিছু গড়ে উঠেছে। তাই ঈশ্বরের নিজস্ব পরিতৃপ্তি, সমাদর এবং প্রশংসা তাঁর পরিকল্পনার একমাত্র কারণ হতে পারে। "হে আমাদের প্রভু, আমাদের আরাধ্য ঈশ্বর, গৌরব, প্রশস্তি ও পরাক্রম তােমারই, কেননা তুমিই সকল কিছুর স্রষ্টা, তােমারই ইচ্ছায় সকলের সৃষ্টি ও স্থিতি” (প্রকাশিত বাক্য ৪:১১)। কোন মানুষকে যদি আত্মতৃপ্তি ও আত্মগৌরবের জন্য কাজ করতে হয়, তাকে আমরা অসহ্য রকমের আত্মাভিমানী বলে মনে করব। কিন্তু ঈশ্বরের পক্ষে এ কাজ যথার্থ, কারণ যে কারণে মানুষের কাছে ভুল, সেই একই কারণই ঈশ্বরের কাছে সঠিক। মানুষের কাছে এটি ভুল, কারণ সে যা (প্রাণী মাত্র), তার সেই সত্তাকে সে অস্বীকার করছে। ঈশ্বর তা না করলে, তিনিও তাঁর সত্তাকে অস্বীকার করেন (কারণ তিনিই একমাত্র প্রকৃত ঈশ্বর, এবং তাঁর চারপাশের অস্তিত্বশীল সবকিছুর চেয়ে তিনি অনেক বেশি যােগ্যতাসম্পন্ন)। ঈশ্বর নিজেকে অস্বীকার করতে পারেন না। তিনিই সর্বোচ্চ, তাই তিনি সর্বদা নিজের তৃপ্তির জন্য কাজ করবেন এবং সর্বোপরি, নিজস্ব গৌরবের সন্ধান করবেন। 

ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি সতর্কবাণী 

সবশেষে, “যা কিছু ঘটে, ঈশ্বর পূর্বেই সব নির্ধারণ করেছেন” – এই মন্তব্যের দ্বারা আমরা যেন ভুল সিদ্ধান্ত করে না-বসি, সেদিকে লক্ষ রাখব। ( ১ ) ঈশ্বর পাপের স্রষ্টা – একটি কারণে, এ কথা সত্য নয়। এটা উপলব্ধি করা খুবই কষ্টকর। কারণ, আমরা যদি একবার বলি যে, ঈশ্বরই সবকিছুরই পরিকল্পনা করেছেন, তা হলে এ থেকে আমরা পাপকে বাদ দিতে পারি না। ঈশ্বর পাপেরও পরিকল্পনা করেছেন, এবং ঈশ্বর যদি পাপের পরিকল্পনা করে থাকেন, এটা প্রায় দেখাবে যে, ঈশ্বর নিশ্চয়ই পাপেরও স্রষ্টা। কিন্তু বাইবেল আমাদের বলে, ঈশ্বর পাপের স্রষ্টা নন। ঈশ্বর স্বর্গদূত এবং মানুষদের সৃষ্টি করেছিলেন। ঈশ্বর যখন তাদের প্রথম সৃষ্টি করেছিলেন, তারা ছিল উত্তম। যে-কোন ভাবেই হােক (কীভাবে, আমরা তা জানি না) পাপ এই সব প্রাণীর মধ্যে জাগ্রত হল। শয়তানই পাপের প্রকৃত স্রষ্টা। ঈশ্বরের পরিকল্পনার মধ্যে অবশ্যই তা সংযােজিত হয়েছিল, কিন্তু ঈশ্বর পাপের স্রষ্টা – সেভাবে নয়। 

( ২ ) আর একটি বিষয়, আমরা বলতে পারি না যে, মানুষের সঙ্গে পাশা খেলার “সাধারণ মূল্য বা বন্ধকী জিনিসের" মতাে আচরণ করা হয়েছে। একথা সত্য যে, ঈশ্বর ইতােমধ্যেই সমস্ত মানুষের শেষগতি নির্ধারণ করে রেখেছেন। ঈশ্বরের মনােনয়ন অনুযায়ী, কিছু মানুষ পরিত্রাণ লাভ করবে। এবং ঈশ্বরের চরম পরিকল্পনা অনুসারে, কিছু মানুষ বিনষ্ট হবে। যিহূদা বলেন, কিছু মানুষের দত্ত পূর্বনির্ধারিত ( ৫ পদ ); কিন্তু পৌল বলেন, “ক্রোধের দণ্ডের জন্য নয়। বরং আমাদের প্রভু যীশু খ্রীস্টের পুণ্যে পরিত্রাণ অর্জনের জন্যই ঈশ্বর আমাদের নির্ধারিত করেছেন” (১ থেসালােনিকীয় ৫ : ৯)। কিন্তু বাইবেল আমাদের স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে, যারা শেষপর্যন্ত বিনষ্ট হয় , তারা সত্যিসত্যিই পরিত্রাণ লাভ করতে চায়নি। তারা নিজেদের পছন্দ অনুসারেই বিনষ্ট হয়েছে। কারণ ঈশ্বরের চরম পরিকল্পনা কোনােভাবেই মানুষের দায়িত্বকে দুর্বল বা ধ্বংস করে না।

Post a Comment

0 Comments