Recent Post

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

পিতার কাছে পৌঁছাবার পথ । (যোহন ১৪:৪-৬ পদ)

 
      
  ক্রুশে মৃত্যুবরণ করার পূর্ব রাত্রে জেরুশালেমের একটি ঘরের উপরের কুঠরিতে যীশু তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে শেষ ভােজে মিলিত হন । সেখানে শিষ্যদের পা ধুয়ে দেবার পর এবং ইস্করিয়ােতীয় যিহূদার বাইরে যাবার পর, প্রভু তার ১১ জন শিষ্যের সঙ্গে খুব ঘনিষ্টভাবে কথা শুরু করেন । তিনি জানতেন যে পৃথিবীর মাটিতে কাটাবার বেশি সময় তাঁর কাছে অবশিষ্ট নেই , কারণ আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু ঘটতে চলেছে । তিনি আরও জানতেন যে , এমন পরিস্থিতিতে শিষ্যরাও উদ্বিগ্ন । তাই , মৃত্যুর মুখােমুখী হয়ে , নিজে উদ্বিগ্ন হয়েও তাঁর ভালােবাসার কারণে , যীশু হৃদয়ের উদ্বিগ্নতা দূর করতে শিষ্যদের আদেশ করলেন । কিন্তু কেবল আদেশ করে খান্ত হওয়া নয় , শিষ্যরা যাতে সেই আদেশ পালন করতে পারে , তার জন্য তিনি তাঁর দায়িত্বের কথা স্মরণ করে , তাদের প্রতি একের পর এক বাস্তব প্রতিজ্ঞাও করেছেন । 
          তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে , সেই মুহূর্তে এবং তাদের আগামী জীবনে যীশুর উপস্থিতি একান্ত প্রয়ােজন। তাই , তিনি পিতাতে ও তাঁতে বিশ্বাস করতে তাদের বললেন । পিতার কাছে ফিরে যাবার উদ্দেশ্য সম্বন্ধেও তিনি তাদের জানিয়ে বললেন , তিনি তাঁর পিতার গৃহে শিষ্যদের জন্য স্থান প্রস্তুত করতে যাচ্ছেন , কিন্তু তিনি আবার ফিরে আসবেন ও তাঁর কাছে শিষ্যদের নিয়ে যাবেন ; যেন তিনি যেখানে থাকেন , শিষ্যরাও সেখানে থাকতে পারে । আমাদের পক্ষে একথা জানাই যথেষ্ট যে , তিনি তাঁর সন্তানদের জন্য একটি স্থান প্রস্তুত করছেন , যেখানে আমরা তাঁর সঙ্গে অনন্তকাল কাটাবাে। 
 
         এই কথা বলার পর , পিতার কাছে পৌঁছাবার উপায় সম্বন্ধে যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন , “ আমি যেখানে যাচ্ছি , তােমরা তার পথ জানাে ” ( ৪ পদ ) । এই কথার দ্বারা তিনি তাদের যে কথা বলতে চেয়েছিলেন, তা হল , “ তােমরা আমাকে জানাে ; আমিই সেই পথ" । কিন্তু তিনিই যে সেই পথ , সেকথা তিনি আর একটু পরে থােমার কথার উত্তর দিতে গিয়ে সরাসরি বলেছেন । এখন , তিনিই যে পিতার কাছে পৌঁছাবার সেই পথ , তা তিনি ইতিমধ্যেই শিষ্য তথা অন্যদের কাছে প্রকাশ করেছেন । এর আগে ইহুদীরা যখন পিতার বিষয় তাকে প্রশ্ন করেছিল , তখন যীশু তাদের বলেছিলেন , “তােমরা আমাকেও জানাে না , আমার পিতাকেও জানাে না ; যদি আমাকে জানতে , আমার পিতাকেও জানতে ” (৮:১৯ ) । আবার ইহূদীরা যখন ঈশ্বর - নিন্দার দোষে যীশুকে দোষীকৃত করেছিল , তখন যীশু তাদের বলেছেন, “ আমার পিতার কাজ যদি না - করি , তবে আমাকে বিশ্বাস কোরাে না । কিন্তু যদি করি , আমাতে বিশ্বাস না করলেও , সেই কাজে বিশ্বাস করাে ; যেন তােমরা জানতে পারাে ও বুঝতে পারাে যে , পিতা আমাতে আছেন , এবং আমি পিতাতে আছি ” ( ১০ : ৩৭-৩৮ ) । ইহূদীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেছেন , “ যে আমাতে বিশ্বাস করে , সে আমাতে নয় , কিন্তু যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন , তাতেই বিশ্বাস করে ; এবং যে আমাকে দর্শন করে , সে তাঁকেই দর্শন করে , যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন ” ( ১২ : ৪৪-৪৫ ) । জগতের পরিত্রাণার্থে তার আগমনের কথা বলে যীশু আরও বলেছেন , “ আমি নিজে থেকে কিছু বলি না ; কিন্তু কী বলব , তা আমার পিতা , যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন , তিনিই আমাকে আজ্ঞা করেছেন । আর আমি জানি যে , তাঁর আজ্ঞা অনন্ত জীবন । অতএব , আমি যা যা বলি , তা পিতা আমাকে যেমন বলেছেন , তেমনই বলি ” ( ১২ : ৪৯-৫০ ) । তাই , যীশু এখানে বলেছেন , “ আমি যেখানে যাচ্ছি , তােমরা তার পথ জানো" ।
       
       কিন্তু যীশুর এই সমস্ত কথার অর্থ শিষ্যরা তখনও পর্যন্ত উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছিল । তাই , তাদের মুখােপাত্র হয়ে থােমা যীশুকে বলল , “ প্রভু আপনি কোথায় যাচ্ছেন , তা আমরা জানি না , পথ কীসে জানবাে ? ” ( ১৪ : ৫ ) । থােমার এই কথার মধ্যে পিতরের প্রশ্নেরই প্রতিধ্বনি আমরা দেখতে পাই , “ প্রভু, আপনি কোথায় যাচ্ছেন ? ... কী জন্য এখন আপনাকে অনুসরণ করতে পারি না ? ” ( ১৩:৩৬ , ৩৭ ) । অন্যান্য সুসমাচারে শিষ্যদের নামের যে তালিকা পাওয়া যায় ( মথি ১০ : ৩ ; মার্ক ৩:১৮ ; লুক ৬:১৫ ; প্রেরিত ১:১৩ ) , সেখানেই কেবল থােমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে । কিন্তু যােহনের সুসমাচারেই কেবল থােমার চরিত্রকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে । যােহন লিখিত সুসমাচারের যে তিনটি স্থানে আমরা থােমার উল্লেখ পাই ( ১১:১৬ ; ১৪ : ৫ এবং ২০ : ২৪-২৮ ) , তা থেকে থােমার চরিত্রের দুটি বৈশিষ্ট আমাদের চোখে পড়ে । বৈশিষ্ট দুটি হল , একদিকে নৈরাশ্য ( despondency ) এবং অন্যদিকে যীশুর প্রতি অনুরাগ ( devotion ) । আমরা দেখি যে , প্রভুকে হারাবার বা প্রভুর প্রতি কিছু মন্দ ঘটার বিষয় , থােমা সর্বদা ভয় পেয়েছে । কোনও কিছু ঘটার আগে , থোমা সর্বদা মন্দ বা নেতিবাচক দিকগুলিকেই চিন্তা করেছে । তাই , যীশু যখন লাসারের মৃত্যুর কথা বলেছিলেন , তখন যীশুর প্রতি অনুরাগ প্রদর্শনের পাশাপাশি তার নিরাশার কথা থােমা অন্যান্য শিষ্যদের বলেছিল , “ চলাে , আমরাও ( যীশুর সঙ্গে ) যাই , যেন এনার ( যীশুর ) সঙ্গে মরি ' ' ( ১১:১৬ ) । 

           যােহন ১৪ : ৫ পদে , থােমার কথা থেকে আমরা উপলব্ধি করি যে , এর আগে যীশু নিজের সম্বন্ধে যে সমস্ত কথা বলেছেন , তার প্রতি যথেষ্ট মনােযােগ না - দেওয়ায় , যীশুর কথার অর্থ উপলব্ধি করতে থােমা ব্যর্থ হয়েছে ; এটা তার চারিত্রিক দূর্বলতারই প্রকাশ । কিন্তু থােমার এই কথার মধ্যে যীশুর প্রতি তার অনুরাগও ফুটে উঠেছে , কারণ তাদের কাছ থেকে যীশুর চলে যাবার কথা থােমা সহ্য করতে পারেনি । তাই , থােমা প্রভুকে বলেতে চেয়েছে , “ প্রভু , আপনি কোথায় যাচ্ছেন , তা - ই আমরা জানি না , আমরা কীভাবে সেখানে যাবার পথ জানতে পারি ?" এর দ্বারা থােমা তার মনের কথাটাই প্রকাশ করে ফেলেছে । আমরা জানি , বিশ্বাসীরা অনেক সময় থােমাকে “ অবিশ্বাসী থােমা ” নামে অভিহিত করে থাকে । কিন্তু এই নাম উপযুক্ত কি - না , সে বিষয়ে আমরা প্রশ্ন করতে পারি । কারণ , আমরা থােমার মধ্যে এমন একটি ব্যক্তিত্বকে দেখতে পাই , যে , কোনও বিষয়ে প্রকৃত উপলব্ধি ছাড়া কখনও তা বুঝতে পারার কথা বলে না ; অর্থাৎ, সে কারুর মনে রেখে , না বুঝেও বােঝার কথা বলে না । এর মধ্যে তার সততাই ফুটে উঠেছে । 

            থােমার এই সততাকে সমীহ করেই , তাকে তিরস্কার করার পরিবর্তে , যীশু নিজের সম্বন্ধে অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রকাশ আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন , “ আমিই পথ ও সত্য ও জীবন ; আমা দিয়ে না - আসলে , কেউ পিতার কাছে আসে না ” ( ১৪ : ৬ ) । যােহনের সুসমাচারে যে ৭ টি “ আমি উক্তি ” পাওয়া যায় {জীবন - খাদ্য ( ৬:৪৮ ) , জগতের জ্যোতি ( ৮:১২ ) , দ্বার ( ১০ : ৯ ) , উত্তম মেষপালক ( ১০:১১ ) , পুনরুত্থান ও জীবন (১১:২৫ ) , প্রকৃত দ্রাক্ষালতা ( ১৫ : ১ ) } , এটি তাদের মধ্যে একটি । গ্রীক বা ইংরাজি বাইবেলে , এই পদে পথ , সত্য , ও জীবন , প্রতিটি শব্দের আগে নির্দিষ্ট আর্টিকেল ( direct article) ব্যবহার করা হয়েছে ।

             নিজের সম্বন্ধে যীশুর এই দাবি খুবই গুরুতর। যীশু এখানে নিজের সম্বন্ধে এমন কথা বলেননি, "আমি পথ দেখাই!" বা "আমি সত্য সম্বন্ধে শিক্ষা দান করি ” বা “ আমি জীবন দান করি । ” অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের ন্যায় যীশু কেবল পথ প্রদর্শনকারী নন , বা সত্য শিক্ষাদানকারীও নন । তিনি স্বয়ং পথ , স্বয়ং সত্য এবং স্বয়ং জীবন । এর দ্বারা যীশু বলতে চেয়েছেন , “ আমিই সেই পথ । যখন তুমি আমার কাছে আসাে , তখন তুমি ঈশ্বরের সাক্ষাৎ লাভ করাে ; তখন তুমি চূড়ান্ত বাস্তব ও সত্য লাভ করাে ; তখন তুমি সেখানে জীবন লাভ করাে।" খ্রীস্ট স্বয়ং ঈশ্বর হওয়ায় , তিনি তাঁর বৈশিষ্টের সমান ; অর্থাৎ তাঁর প্রতিটি বৈশিষ্ট অসীম । তাই , তিনি যে কেবল প্রেমের অধিকারী , তা নয় ; তিনি স্বয়ং প্রেম , শতকরা ১০০ ভাগ প্রেম । তিনি আবার ধার্মিকতা , শতকরা ১০০ ভাগ ধার্মিকতা । ঠিক তেমনই যীশুই সেই পথ ; তিনি তাঁর প্রতিটি কাজ , কথা এবং মনােভাবের দ্বারা ঈশ্বর ও তাঁর মনােনীতদের মধ্যে একমাত্র মধ্যস্থ । এই কারণে , পিতার সঙ্গে যিনি অবিভাজ্য সম্পর্কে আবদ্ধ , সেই যীশু খ্রীস্টের সঙ্গে জীবিত সহভাগিতা ছাড়া আমাদের পরিত্রাণের অন্য কোনও উপায় নেই ( রেমীয় ৫ : ১ , ২ ) । এইভাবে তিনি যেমন মানুষের কাছ থেকে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছাবার পথ ; ঠিক তেমনই পিতার কাছ থেকে সমস্ত স্বর্গীয় আশীর্বাদ মানুষের কাছে পৌঁছাবার পথও তিনি (মথি ১১:২৭ , ২৮ ) । 

          আবার , যীশু তাঁর ব্যক্তিত্বে সত্যের মূর্তপ্রকাশ । সমস্ত মিথ্যার বিরুদ্ধে তিনিই প্রকৃত সত্য । তিনি আমাদের পরিত্রাণের প্রকাশের নির্ভরযােগ্য উৎস । তাই , ৭ পদে তিনি নিজেকে পিতা ঈশ্বরের প্রকাশকারী হিসাবে বর্ণনা করেছেন । জীবিত পথের ন্যায় , জীবিত বা সক্রীয় সত্য হিসাবে , যীশু আমাদের জীবনকে ধরেন এবং প্রভাবিত করেন । এই সত্যই আমাদের শুচি করে , নির্দেশনা দান করে , এবং স্বাধীন করে ( ৮:৩২ ) । তিনি স্বয়ং সত্য হওয়ায় , তিনিই তাঁর ব্যক্তিত্বে পাপের পরাধীনতা থেকে আমাদের স্বাধীন করেন । আমরা জানি, যীশুর বিচারের সময় পিলাত যীশুকে প্রশ্ন করেছিল , “ সত্য কী ? ” ( ১৮:৩৮ ) ; এখানে যীশু তাঁর শিষ্য তথা বিশ্বাসী আমাদের সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, “ আমিই সত্য" । 

কিন্তু কেবল পথ ও সত্য নয় , যীশু স্বয়ং জীবন । আর এখানে জীবনের অর্থ , যা মৃত্যুর বিপরীত । ঈশ্বরের সমস্ত গৌরবপূর্ণ বৈশিষ্ট তাঁর পুত্রে বিদ্যমান ( ১ : ৪ ) । আর যেহেতু সেই পুত্রের মধ্যে জীবন আছে ( ১ : ৪ ) , সেইহেতু তিনি তাঁর নিজের সন্তানদের জন্য জীবনের উৎস ও জীবন - দানকারী । তিনি তাঁর সন্তানদের জীবনের জ্যোতি দান করেন ( ৮:১৩ ) , অনন্ত জীবনের কথা বলেন ( ৬:৬৮ ) , এবং উপচে পড়া জীবন দান করেন ( ১০:১০ ) । মৃত্যু যেমন ঈশ্বরের সঙ্গে বিচ্ছেদকে নির্দেশ করে , ঠিক তেমনই জীবন ঈশ্বরের সঙ্গে সহভাগিতাকেই নির্দেশ করে ( ১৭ : ৩ ) । এইভাবে , সেই পথ আমাদের পিতার কাছে নিয়ে আসে , সেই সত্য আমাদের স্বাধীন করে , এবং সেই জীবন পিতার সঙ্গে সহভাগিতা উৎপন্ন করে । 

এইভাবে , যীশু যখন মানুষের নিমিত্ত ঈশ্বরের পরিত্রাণ পরিকল্পনার সত্য আমাদের কাছে প্রকাশ করেন , তখন তা পাপের কর্তৃত্ব থেকে আমাদের মুক্ত করে ; আবার তিনি যখন আমাদের মধ্যে আত্মিক জীবনরূপ বীজ রােপন করেন , তখন তা পিতার সঙ্গে আমাদের সহভাগিতা উৎপন্ন করে ; আর এর মাধ্যমেই তিনি স্বয়ং পথ হিসাবে , আমাদেরকে পিতার কাছে উপস্থিত করেন । আর তাই যীশু আরও যােগ করেছেন , “ আমা দিয়ে না - আসলে কেউ পিতার কাছে আসে না" । 

এখন যেহেতু , মানুষের পরিত্রাণার্থে ঈশ্বরের পরিকল্পনার সত্য জানতে হলে আমরা যীশুর উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল ( যেহেতু তিনি নিজে সেই সত্য ) , এবং তিনিই সেই সত্যের দ্বারা আমাদের নতুন - জন্ম দান করেন , সেইহেতু যীশুকে বাদ দিয়ে পিতার কাছে আসা আমাদের কারুর পক্ষেই সম্ভব নয় । তাই , খ্রীস্টকে বাদ দিয়ে কখনও পরিত্রাণের সত্য , অনন্ত জীবন , এবং পিতার কাছে পৌছাবার পথ সম্ভব নয় । এই কারণে , সেই পরিত্রাণ , বা অনন্ত জীবন বা পিতার সান্নিধ্য যে লাভ করেছে , যার মধ্যে সেই পরিত্রাণের নিশ্চয়তা বর্তমান , কেবল সেই ব্যক্তিই তাঁর পরিত্রাণ লাভে এক ও অদ্বিতীয় পরিত্রাতার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারে । খ্রীস্টীয় পরিবারে জন্মগ্রহণের দ্বারা , খ্রীস্ট বিশ্বাস সম্বন্ধীয় শিক্ষা বা জ্ঞান লাভ করার দ্বারা , বা মণ্ডলী বা মাণ্ডলিক সম্প্রদায়ের নেতা হওয়ার দ্বারা , বা ঈশতাত্ত্বিক বিদ্যালয়ে অধ্যাপক হওয়ার দ্বারা কেউ কখনও তাঁর পরিত্রাণের নিশ্চয়তা লাভ করতে পারে না । কিন্তু কেবল খ্রীস্টে বিশ্বাসস্থাপনের দ্বারা ঈশ্বর দত্ত সেই পরিত্রাণ যখন আমরা লাভ করি , এবং সে বিষয়ে যখন আমরা স্বর্গীয় নিশ্চয়তা লাভ করি , তখন আমরাও পিতরের মতাে সাক্ষ্য দিয়ে থাকি । ইস্রায়েলের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্ব তথা অধ্যক্ষ , প্রচীনবর্গ , অধ্যাপক , মহাজকরা কী ভাববেন , সেই ভয়ে পিতর পিছু হটেনি , কিন্তু দৃঢ় নিশ্চয়তায় সাহসের সঙ্গে প্রকাশ করেছে , “ নাসরতীয় যীশু খ্রীস্টের নামে , যাকে আপনারা ক্রুশে দিয়েছিলেন , তাঁকে ঈশ্বর মৃতদের মধ্য থেকে উঠিয়েছেন , তাঁরই গুণে এই ব্যক্তি (মাতৃগর্ভ থেকে খঞ্জ ) আপনাদের সামনে সুস্থ শরীরে দাঁড়িয়ে আছে । ... আর অন্য কারুর কাছে পরিত্রাণ নেই; কারণ আকাশের নিচে মানুষদের মধ্যে দত্ত এমন আর কোনও নাম নেই , যে নামে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে” ( প্রেরিত ৪ : ১০-১২ ) । যীশু ও পিতরের কথা থেকে , খ্রীস্টবিশ্বাসের চরমতা এবং সর্বত্র এই বিশ্বাস প্রচারের জরুরী প্রয়ােজনতা আমরা খুব সহজেই উপলব্ধি করতে পারি । 

এখন , ভারতবর্ষের মতাে ' যত মত তত পথের' দেশে যীশুর এই কথা ( আমা দিয়ে না - আসলে কেউ পিতার কাছে আসে না ) ধর্মীয় সংকীর্ণতা বা গোঁড়ামি বলে নিন্দিত হতে পারে । কিন্তু তাতে কিছু করার নেই ; কারণ এটাই হল সত্যের বৈশিষ্ট ; সত্য সর্বদা একটাই , তা কখনও একাধিক হতে পারে না । আমার চাবির রিং - এ একাধিক চাবি থাকতে পারে , কিন্তু আমার বাড়ীর সদর দরজা তাদের মধ্যে কেবল একটা চাবির দ্বারাই খুলবে ; তারা যতই দেখতে এক হােক - না - কেন , অন্য চাবি দিয়ে কোনও কাজ হবে না । তাই , আমরা যদি যীশুর এই কথার সত্যতা স্বীকার করি যে , পিতার কাছে পৌঁছাবার তিনিই একমাত্র পথ , তাহলে যারা যীশুকে বাদ দিয়ে পিতার কাছে পৌঁছাবার চেষ্টা করে চলেছে , তারা এই বিশ্বব্ৰম্ভ্রাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা , রক্ষাকতা , আমাদের পরিত্রাতা বাইবেলের পাতায় পাতায় যিনি নিজেকে প্রকাশ করেছেন , সেই ঈশ্বরের কাছে কখনও পৌঁছাতে পারবে না ; পরিবর্তে , তারা তাদের মনগড়া ঈশ্বরের কাছে পৌঁছাবে । 

এখন , আমরা যারা নিজেদের খ্রীস্টবিশ্বাসী বলে পরিচয় দিই , যাদের কাছে ঈশ্বরের বাক্য হিসাবে বাইবেলই তাদের জীবনে বিশ্বাস ও অনুশীলনের একমাত্র পাথেয় , আমরা যেহেতু যীশুকে ঈশ্বর বলে স্বীকার করি , আর ঈশ্বর যেহেতু কখনও মিথ্যা কথা বলতে পারেন না , সেইহেতু যীশুর কথানুসারে আমাদের পরিত্রাণের একমাত্র পথ ও নাম হল যীশু খ্রীস্ট । আপনি কি তা বিশ্বাস করেন । কারণ , এই বিশ্বাস ছাড়া আপনি কখনও আপনার পরিত্রাণের নিশ্চয়তা পেতে পারেন না । আর সেই অনিশ্চয়তাই আপনার কাছে অন্যান্য সম্ভাবনার পথকে খুলে রাখতে আপনাকে বাধ্য করে চলেছে ।

Post a Comment

0 Comments